পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া:- এক সময় গ্রামীণ কিংবা শহরতলির প্রতিটি পাড়ায় একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল যেনো শিক্ষার বাতিঘর। সকালে ঘণ্টা বাজলেই খাতা-কলম হাতে শিশুরা ছুটে যেত স্কুলে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সেই চিত্র। দিন দিন অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর তাদের জায়গা নিচ্ছে আধুনিক সাজে গড়ে ওঠা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব ও মানসম্মত শিক্ষা না থাকায় অভিভাবকরা বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতি ঝুঁকছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় ইংলিশ ভিত্তিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে সাধারণত ছোট ক্লাসেই কম সংখ্যক শিক্ষার্থী, ডিজিটাল শিক্ষাদান, নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা, এবং আন্তর্জাতিক পাঠ্যসূচি থাকায় অনেকেই এগুলোকে “উন্নত শিক্ষা” হিসেবে ভাবছেন। যদিও এসব স্কুলে শিক্ষার খরচ তুলনামূলক বেশি, তারপরও অভিভাবকরা নানা কষ্ট করে সন্তানকে ভর্তি করাচ্ছেন এসব প্রতিষ্ঠানে।
তবে শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রবণতা সামাজিক বৈষম্য বাড়াতে পারে। যারা ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা নিতে পারছে না, তারা পিছিয়ে পড়বে মূলধারার প্রতিযোগিতায়।উ পাশাপাশি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সংস্কার ও মান উন্নয়নের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
শৈশবের পাঠশালায় যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তা হয়তো ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থারও চেহারা পাল্টে দেবে।

