পূজা মাজী,নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: নেপালে অশান্তি চরমে পৌঁছেছে। সরকারি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রনেত্রী রূথ খড়কা। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি একটি ভিডিও বার্তায় বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, নেপালে যা ঘটছে তা শুধু একটি অভ্যন্তরীণ সঙ্কট নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন।
খড়কা বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছাত্রছাত্রী। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৫০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যে গুলিগুলো রাবার বুলেট হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো আসলে রাবার ছিল না। এগুলি ইচ্ছাকৃত হত্যার অস্ত্র। নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার বদলে তাদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে নারী ও শিশুদের ওপর সেনাদের আচরণ নিয়ে। রূথ খড়কার কথায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণে অনেক মেয়েকে তাদের নিজের বাড়িতেই ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে। এটি শুধু ভয় দেখানো নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, নেপাল শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অথচ বাস্তবে শিশুদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।
প্রথমে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল দুর্নীতির প্রতিবাদ থেকে। সরকারি স্তরে বিশেষ সুবিধাভোগী রাজনৈতিক অভিজাত ও তাদের সন্তানদের যাদের স্থানীয় ভাষায় নেপো কিডস বলা হয় অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে জমে ছিল তরুণ সমাজে। সেই ক্ষোভই রূপ নিয়েছে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে।
প্রতিরোধ আন্দোলন দমাতে সেনা ও পুলিস কড়া ব্যবস্থা নিলেও পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। অগ্নিসংযোগ হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ব্যক্তিগত বাড়িতে, আরও কয়েকজন নেতার বাড়িতেও হামলা হয়। পুলিস-প্রদর্শনকারীর সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটে।
বিশ্ববাসীর উদ্দেশে রূথ খড়কা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন -এটি প্রতিরক্ষা নয়, এটি খুন। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা চাই আন্তর্জাতিক মহল এগিয়ে এসে নেপালের নাগরিকদের পাশে দাঁড়াক। নীরবতা শোষকদের রক্ষা করে, কিন্তু সচেতনতা জীবন বাঁচাতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাদের লক্ষ্য একটাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থার পতন। এক তরুণ বিক্ষোভকারীর কথায় আমরা এখানে এসেছি ন্যায় নিশ্চিত করতে। এই সরকার আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে, তাই আমরা পরিবর্তন চাই।

