নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: পুরুলিয়া জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন মানভূমের প্রখ্যাত গবেষক,সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি পৃষ্ঠপোষক দিলীপ কুমার গোস্বামী।দীর্ঘ শারীরিক অসুস্থতার পর মাত্র ৭২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।দিলীপবাবু ছিলেন পুরুলিয়ার ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতির জীবন্ত ভাণ্ডার। তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্ম ওই জেলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে,‘মানভূমের ভাষা আন্দোলন’‘পুরুলিয়ার বঙ্গভুক্তি’
‘পুরুলিয়ার মন্দির’ ‘সীমান্ত রাঢ়-এর লোকসংস্কৃতি’ ‘লোকসংস্কৃতির দর্পণে পুরুলিয়া’
এছাড়া সম্পাদিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,‘পঞ্চকোটের ইতিহাস’, ‘মানভূমের ঝুমুর’, ‘পুরুলিয়া জেলার থানাগুলির ইতিহাস’, ‘প্রশ্নোত্তরে মানভূম-পুরুলিয়া’, ‘মানভূমের সাধক ও সাধনস্থল’, ‘প্রবন্ধ কুসুমাঞ্জলি’, ‘মানভূমে সুভাষচন্দ্র’, ‘মানভূমে মাইকেল মধুসূদন’, ‘মানভূমের স্বাধীনতা আন্দোলন’, ‘সীমান্ত রাঢ়ের লোকসংস্কৃতি’।
১৯৫৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুরুলিয়ার কাশীপুরের সুতাবই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দিলীপ কুমার গোস্বামী।প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের পাঠশালায়।পরে সোনাথলী-কালাপাথর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং রাঁচী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর।১৯৭৯ সালে গড়জয়পুর আর বি বি উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।২০১৩ সালে অবসর গ্রহণের আগে পর্যন্ত নানারকম সাংস্কৃতিক চর্চা ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি।প্রায় ১৮ বছর হরিপদ সাহিত্য মন্দির সংগ্রহশালার সঙ্গে যুক্ত থেকে পুরুলিয়ার অতীত ও ঐতিহ্যের সন্ধানে কাজ করেছেন তিনি।
পুরুলিয়ার কবি শান্তিপ্রিয় গুরু বলেন,“পুরুলিয়ার সংস্কৃতি জগতে অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”দিলীপ কুমার গোস্বামীর প্রয়াণে পুরুলিয়ার সাংস্কৃতিক মহলে শোকের ছায়া।তাঁর কাজ নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই পথ দেখাবে, এমনটাই আশা সাহিত্য মহলের।

