সুইতা পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া : অত্যধিক নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টি আবার জল ছেড়েছে ডিভিসি। এরফলে দামোদর সহ বিভিন্ন নদীর জল স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। কোথাও হাঁটুসমান জল ও কোথাও জল কোমর পর্যন্ত। হুগলির খানাকুল, আরামবাগ এবং হাওড়ার আমতা, উদয়নারায়নপুর এবং ধাড়াশিমূল সহ একাধিক গ্ৰাম এবং জমি জলমগ্ন। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ। গ্ৰামগুলি মূলত কৃষি নির্ভর। বৃষ্টির জল জমে এমনিতেই মাঠে জল জমে গেছে আবারও ডিভিসি থেকে জল ছাড়ার ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার জেরে চরম ক্ষতির মুখে স্থানীয় কয়েকশো কৃষক।
টানা বৃষ্টি ও বন্যার ফলে মাঠে জল জমে যাওয়ায় কৃষকদের ধান,পাট ও শাকসবজি ইত্যাদি নানা ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক ধানের বীজতলা জমিতেই নষ্ট । দ্রুত জমি থেকে জল বের করতে না পারলে খরিফ মরশুমে ধান চাষের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বিশেষ করে এই ধানের বীজতলা জলেতে ডুবে যাওয়া বীজের অঙ্কুরোদগম ব্যাহত হয়েছে। সময় মতো পরিচর্যা না করলে ফলন কমার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এতে কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র উদ্বেগ। পাটের জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকায় গোড়া পচে যাচ্ছে। শাকসবজির ক্ষেত একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে।অতিরিক্ত বৃষ্টিতে মাটির উপরিভাগ ধুয়ে যাওয়ায় উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।জলাবদ্ধতার কারণে ফসলে বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে, যা ফলন কমাতে পারে। অনেক কৃষকের জমিতে আবার নতুন করে চাষ করে শুরু করা ও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকের বক্তব্য, ” আমরা চারা রোপন করে কিছুদিন হলো। এখন সবই জলের নীচে। নতুন করে শুরু করতে ও আর সাধ্য নেই।” এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা সরকারি সাহায্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। যেমন – বীজ, সার, আর্থিক অনুদান ও পরামর্শ।

