নিজস্ব সংবাদদাতা ,আরএনবি:প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিউ টাউন ও সল্টলেক থেকে শহরে আসা-যাওয়া করা হাজার হাজার গাড়ির ভিড়ে কার্যত জ্যামে পাথর হয়ে যায় চিংড়িঘাটা মোড়। অফিস টাইম হোক কিংবা সন্ধ্যা, চিংড়িঘাটার যানজট এখন নিত্যদিনের মাথাব্যথা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনেরও। এই যানজট কমাতে ইতিমধ্যেই কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং হিডকো একসঙ্গে বসে বিকল্প পথের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা শুরু করেছে।
চিংড়িঘাটা হল নিউ টাউন ও সল্টলেকের প্রধান প্রবেশদ্বার, তাই সমস্ত চাপ এসে পড়ে এখানেই। ফলে সামান্য কোনও দুর্ঘটনা বা রাস্তার মেরামতি কাজ শুরু হলেই কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তৈরি হয় গাড়ির লম্বা লাইন। এই সমস্যার সমাধান করতে গেলে একাধিক বিকল্প রাস্তা চালু করা জরুরি বলে মত প্রশাসনের।
সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে দুটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে—
বাইপাসের নতুন সংযোগ তৈরি: নিউ টাউনের দিক থেকে সরাসরি ই এম বাইপাসে ঢোকার জন্য আলাদা ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাসের চিন্তাভাবনা চলছে। এতে চিংড়িঘাটার চাপ কিছুটা হলেও কমবে।
সেক্টর ফাইভ হয়ে শহর সংযোগ: সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ থেকে উল্টোডাঙা এবং বেলগাছিয়া হয়ে শিয়ালদহমুখী একটি দ্রুত সংযোগ পথ খোলা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ট্রাফিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প রাস্তার পাশাপাশি চিংড়িঘাটায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম, ডিজিটাল নজরদারি এবং গাড়ি চলাচলের জন্য স্মার্ট ডাইভারশন প্ল্যান চালু করা গেলে জ্যামের সমস্যা অনেকাংশে কমবে।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষও চাইছেন এই সমস্যা থেকে মুক্তি। প্রতিদিন অফিস যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। অনেকের মতে, মেট্রো পরিষেবা দ্রুত চালু হলে চাপ আরও ভাগ হবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর থেকেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

