পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আবারো সৃষ্টি হয়েছে একটি গভীর নিম্নচাপ, যা জনমনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই গভীর নিম্নচাপ ক্রমশই দেশের অভ্যন্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই নিম্নচাপের ফলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং মধ্যাঞ্চলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তবে কি এবার বন্যা আসতে আর দেরি নেই?
গত এক দশকে আমরা দেখেছি, এই ধরনের গভীর নিম্নচাপের পরপরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নদীবাহিত এলাকায় যেখানে পানি ধারণক্ষমতা কম, সেখানে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবারও যদি ভারী বর্ষণ কয়েকদিন অব্যাহত থাকে, তবে সেই আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এরই মধ্যে পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নদীর পানি কিছু কিছু পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কাও রয়েছে, বিশেষ করে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে প্রবল বর্ষণের কারণে সৃষ্ট পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। ফলে উত্তরের জেলাগুলো যেমন কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট কিংবা শেরপুরের কিছু অংশ ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে।
তবে আশার কথা হলো, সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিচু এলাকা থেকে মানুষকে সরানো, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, শুকনো খাবার ও ওষুধ মজুতের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আবহাওয়ার আচরণ এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে আমাদের জীবন ও জীবিকায়।
সুতরাং, আমরা যদি আগেভাগেই সতর্ক না হই, তবে এই গভীর নিম্নচাপ পরিণত হতে পারে এক ভয়াবহ দুর্যোগে। প্রস্তুতি ও সচেতনতাই হতে পারে একমাত্র প্রতিরক্ষা। কারণ, প্রকৃতির উপর নিয়ন্ত্রণ আমাদের নেই, কিন্তু প্রতিক্রিয়া কেমন হবে—তা নির্ধারণ করার সুযোগ আমাদের হাতে রয়েছে।

