পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: গতরাত থেকে শুরু হওয়া একটানা ভারী বৃষ্টিপাতে আজ কলকাতার চেহারাই বদলে গেছে। মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে শহরের প্রায় প্রতিটি রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, নিকাশি ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও প্রকট হয়েছে।
কলকাতার মধ্য ও দক্ষিণ অংশ-পার্ক সার্কাস, ভাঙড়, রুবি মোড়, বেহালা, ঢাকুরিয়া, গড়িয়া -সবখানে একহাঁটু জল জমেছে। এমনকি রাজভবন সংলগ্ন এলাকাও বাদ যায়নি। বহু নিচু এলাকায় বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু জায়গায়। জল ঢুকে পড়েছে বহু বাড়ির ভেতরেও।
সকাল থেকেই শহরের ট্রেন চলাচল কার্যত থমকে গেছে। দক্ষিণ পূর্ব ও দক্ষিণ রেল শাখার বহু লোকাল ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে। মেট্রোর পরিষেবা প্রথম দিকে স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর নানান স্টেশনে জলের সমস্যা দেখা দেয়। অফিস টাইমে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
শুধু রেল নয়, রাস্তাঘাটও সম্পূর্ণ স্তব্ধ। বহু গুরুত্বপূর্ণ মোড় – যেমন শেক্সপিয়ার সরণি, ইএম বাইপাস, এন্টালি – গাড়ি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাস, ট্যাক্সি, অ্যাপ ক্যাব পরিষেবা প্রায় বন্ধ। বহু স্কুল ও অফিস ছুটি ঘোষণা করেছে।
কলকাতা পুরসভা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর যৌথভাবে জল বের করার কাজ শুরু করলেও, কোথাও কোথাও জল সরাতে আরও ১২-১৮ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের ওপর একটি গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। ফলে শহরের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
নাগরিকেরা আতঙ্কিত হলেও, প্রশাসনের তরফে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জলমগ্ন এলাকাগুলিতে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহও অনেক জায়গায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, দুর্ঘটনা এড়াতে।
এই অকাল বর্ষণের জেরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে শহরের পরিকাঠামো ও প্রস্তুতি নিয়ে। প্রতি বছরই বর্ষায় কলকাতা জলের তলায় চলে যায়, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।

