পায়েল পাখিরা, সংবাদদাতা, হাওড়া:- পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে ওপার বাংলার—অর্থাৎ বাংলাদেশের—গভীর ছাপ বহু দশক ধরেই প্রতিফলিত হয়ে চলেছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর লক্ষ লক্ষ মানুষ পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে বসতি স্থাপন করেন। এঁদের সঙ্গে এসেছিল তাঁদের নিজস্ব ভাষাভঙ্গি, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, গান, সাহিত্য, সংস্কৃতি—যা ধীরে ধীরে এই বাংলার মাটিতে মিশে গেছে এবং এক নতুন মিলনসংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।
তৃণমূল স্তরে—অর্থাৎ গ্রামগঞ্জ, পাড়াপ্রতিবেশ, হাটবাজার বা লোকসংস্কৃতিতে—ওপার বাংলার প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। যেমন, ‘পল্লীগীতি’, ‘ভাটিয়ালি’, ‘মুর্শিদি’, ‘মারফতি’—এসব গান পশ্চিমবঙ্গের মঞ্চেও সমান জনপ্রিয়। খাদ্যাভ্যাসেও এই ছাপ প্রকট—পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ, চচ্চড়ি, শুঁটকি খাওয়ার রীতি ওপার বাংলার সৌজন্যে এইপারে এসেছে।
ভাষার প্রকরণেও অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। ওপার বাংলা থেকে আগত মানুষের মুখে চালু থাকা শব্দ ও উচ্চারণ আজ পশ্চিমবঙ্গের নানা অঞ্চলে প্রচলিত। এমনকি রাজনীতির ময়দানেও বহু নেতানেত্রীর শিকড় ওপারে—তাঁরা শরণার্থী পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। ফলে, ইতিহাস-ভিত্তিক স্মৃতি ও সংগ্রাম আজও রাজনীতির ভাষায় জায়গা করে নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এ বঙ্গের তৃণমূল জীবনের বহু স্তরে ওপার বাংলার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার আজও জীবন্ত। দেশভাগের ব্যথা-ভরা সেই অধ্যায় কেবল ইতিহাস নয়, বরং এই বাংলার প্রতিদিনের জীবনের অংশ। দুই বাংলার এই আত্মিক যোগাযোগই গড়ে তুলেছে একটি অনন্য, সংমিশ্রিত সংস্কৃতির ধারা।

