সুইতা পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া :- ভেঙে পড়া স্বপ্ন। ভিজে যাওয়া শৈশব। যেখানে অক্ষর জ্ঞান নয়, শেখানো হয় মিলেমিশে থাকার পাঠ, খেলার ছলে শিখিয়ে দেওয়া হয় জীবনের প্রথম শিক্ষা, আচরণ এবং অন্যান্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়। এমনিতে শিশুদের প্রথম পাঠশালা বলতে মূলত তাদের বাবা-মাকে বোঝায় যেখানে বাবা-মা শিশুদের প্রথম শিক্ষক।
গ্রামীণ এলাকায় শিশুদের শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপ গ্রামের পাঠশালায়। মাটির ঘরে খোলা মাঠে বা গাছের তলায় শিশুদের শিক্ষা শেখানো হতো। এমনকি পড়াতেন কোন স্থানীয় শিক্ষক বা শিক্ষিকা। পাঠশালায় সমস্ত শিশুরা সকালবেলা থেকে দুপুর পর্যন্ত থাকতো। অভিভাবকরা পছন্দ করতেন শিশুদের একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয় বলে। শিক্ষক বা শিক্ষিকা নিজেরাই রান্না করতেন। সাধারণত খিচুড়ি, ভাত ডাল বা হালকা সবজি রান্না করা হতো। এই ধরনের প্রথায় শিশুদের সহজ সরল জীবনের শিক্ষা মেলে।
এখনো সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি স্কুলের মিড- ডে-মিল চালু হয়েছে। যা কিছুটা হলেও পুরনো পাঠশালা ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনছে। অনেক পাঠশালায় প্রশিক্ষিত শিক্ষক বা শিক্ষিকা নেই। এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে অভিভাবকরা পাঠশালার পরিবর্তে আধুনিক স্কুল বেছে নিচ্ছেন। অনেক অভিভাবক মনে করেন প্রথাগত পাঠশালায় মান-সম্মত শিক্ষা হয় না। ইংরেজি মাধ্যম বা ‘ব্যান্ডেড’ স্কুলে সন্তানকে পড়ানো সামাজিক মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শৈশবের পাঠশালায় যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তা হয়তো ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থার চেহারা পালাচ্ছে

