নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি : নির্বাচনী তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত (এসআইআর) শুনানি তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মজুমদারের গাজোয়ারি ও হুমকিমূলক আচরণের জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।আর ফলে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কমিশন কড়া পদক্ষেপ নেয়। এবং হুগলির জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-কে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়,অবিলম্বে এসআইআর শুনানি পুনরায় শুরু করতে।সূত্রের খবর,গাজোয়ারির কারণে শুনানির পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হয়নি।এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপেই থামছে না।ঠিক কী কারণে এই হুমকি,কার প্ররোচনায় এমন আচরণ,এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা আছে কি না,সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে,ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল কাজে কোনওরকম রাজনৈতিক চাপ,হুমকি বা বাধা বরদাস্ত করা হবে না।প্রয়োজনে আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনা সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।তিনি বলেন,“ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ পড়বে,এই ভয়ে তৃণমূল নেতারা নির্বাচন কমিশনের কাজেও বাধা দিচ্ছেন।গাজোয়ারি,হুমকি,প্রশাসনের উপর চাপ,এই সবই তৃণমূলের পুরনো সংস্কৃতি।নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”শুভেন্দুর অভিযোগ,এসআইআর প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হলে বহু বেআইনি ও ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়বে,আর সেই কারণেই তৃণমূল নেতারা ভয় পেয়ে প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করছেন।রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।একদিকে যেখানে নির্বাচন কমিশন প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ,শাসক দলের প্রভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।এখন দেখার,তদন্তে কী উঠে আসে,গাজোয়ারির নেপথ্যে কারা,এবং নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়।

