পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নাগরিক পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বড়সড় উদ্যোগে নেমেছে কলকাতা পুরসভা। দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জলের জোগান বাড়াতে শুরু হয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক জলপ্রকল্পের কাজ। গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, যার মাধ্যমে লক্ষাধিক মানুষ লাভবান হবেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, ধাপার বিদ্যমান প্লান্টের পাশে একটি নতুন জল শোধনাগার তৈরি হচ্ছে, যা প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন গ্যালন জল উৎপাদন করতে পারবে। অন্যদিকে, গড়িয়া ঢালাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাতেও দ্রুতগতিতে নির্মাণ চলছে আরেকটি জলপ্রকল্পের, যার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১০ মিলিয়ন গ্যালন। এর পাশাপাশি, ধাপায় পুরোনো প্লান্টটি ৩০ মিলিয়ন গ্যালনের জল শোধনে সক্ষম। সব মিলিয়ে মার্চ-এপ্রিলে দুটি নতুন ইউনিট চালু হলে পরিস্রুত জলের জোগানে বড়সড় পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুধু জল উৎপাদন করলেই হবে না, সেটি সময়মতো এবং সঠিকভাবে নাগরিকদের কাছে পৌঁছাতে প্রয়োজন মজবুত পরিকাঠামোর। সেই কারণে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হচ্ছে প্রায় ৮৬-৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন পাইপলাইন। এর মধ্যে ধাপা প্রকল্প থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এবং গড়িয়া প্রকল্প থেকে আরও ৩৬-৪০ কিলোমিটার পাইপ বসানো হবে।
পুরসভার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতর সরাসরি এই প্রকল্পের তদারকি করছে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শহরের দক্ষিণাংশে ভূগর্ভস্থ জলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নাগরিকদের ঘরে ঘরে পরিস্রুত জল পৌঁছে দেওয়া। তিনি আরও জানান, ধাপার নতুন প্লান্ট চালু হলে প্রায় ১৬০টি এবং গড়িয়ার প্রকল্প চালু হলে আরও ১০০টি গভীর নলকূপ বন্ধ করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও রক্ষা পাবে।
এই প্রকল্পের প্রত্যক্ষ উপকারভোগী হবেন টালিগঞ্জ, যাদবপুর, গড়িয়া, বাঁশদ্রোণী, আনন্দপুর, সায়েন্স সিটি সংলগ্ন অঞ্চল এবং বাইপাস লাগোয়া বহু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই প্রকল্পে গতি আনা নিঃসন্দেহে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবায় গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে চাইছে পুরসভা।

