পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও তিন শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির সম্ভাবনায় জোরালো আলোচনার ঝড় উঠেছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা আসেনি, তবে সময়সূচি অনুযায়ী জানুয়ারি ও জুলাই মাসে ডিএ বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার রীতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। তাই অনুমান করা হচ্ছে, এবারের ডিএ-ও সেই ধারাবাহিকতায় বাড়বে এবং ঘোষণা হবে পুজোর সময়ের কাছাকাছি।
এই প্রসঙ্গে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, “এই তিন শতাংশ বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ২০টি ডিএ কিস্তি সম্পূর্ণ হবে এবং তাঁদের ডিএ দাঁড়াবে ৫৮ শতাংশে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় কেন্দ্রীয় কর্মীদের শেষ মহার্ঘ ভাতা। এরপর থেকেই অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে, যা কার্যকর হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
তবে যখন কেন্দ্র এগিয়ে চলেছে নতুন বেতন কাঠামোর দিকে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনেই রয়েছেন। সপ্তম বেতন কমিশন কবে গঠিত হবে তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট বার্তা নেই। স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে গভীর হতাশা ও অসন্তোষ।
এই অবস্থায় মলয় মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, “কেন্দ্রে যখন অষ্টম বেতন কমিশনের ঘোষণা হয়ে গেছে, তখন রাজ্যের সপ্তম বেতন কমিশন নিয়েই এখনও ধোঁয়াশা। আদৌ গঠিত হবে কিনা, সেটাই এখন প্রশ্ন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই রয়েছে।”
সরকারি কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, রাজ্যের কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চনা চলছে। কেন্দ্রের কর্মীরা যেখানে একের পর এক সুবিধা পাচ্ছেন, সেখানে বাংলা পিছিয়ে পড়ছে অর্থনৈতিক স্বীকৃতির দিক থেকে। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রী কবে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট ঘোষণা করেন।
সারকথা, কেন্দ্র যখন নতুন বেতন কমিশনের পথে, তখন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা এখনও আশায় বসে। নয়া বেতন কাঠামোর প্রতীক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না বাংলায়।

