পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: বর্তমান যুগ প্রযুক্তিনির্ভর। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরই একটি উদাহরণ হচ্ছে গুগলের AI প্রযুক্তি ‘Gemini’—যার মাধ্যমে ছবি সম্পাদনা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, মুখমণ্ডল মসৃণকরণ ইত্যাদি নানা কাজ খুব সহজেই করা যায়। কিন্তু নিজেকে “আরও সুন্দর”, “আরও নিখুঁত” করে তোলার এই দৌড়ে আমরা কি নিজের বাস্তবতা হারিয়ে ফেলছি না?
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়ায় নিজেদেরকে উপস্থাপন করতে গিয়ে AI প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার করছে, তারা না বুঝেই এক অজানা বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি তাদের বাস্তব চেহারাকে পাল্টে এমন এক ভার্চুয়াল অবয়বে রূপ দিচ্ছে, যা সমাজে এক ধরনের অবাস্তব সৌন্দর্যের মানদণ্ড তৈরি করছে। ফলস্বরূপ, আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়ছে, তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ, অবসাদ এবং কখনো কখনো আত্মপরিচয়ের সংকট।
এছাড়া, এসব AI প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা ছবি ও ডেটা কখন, কোথায়, কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা আমরা অনেক সময় জানি না। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার হুমকি তৈরি হতে পারে, যা সাইবার অপরাধীদের সুযোগ করে দেয়।
তবে AI পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। সঠিকভাবে এবং সচেতনভাবে ব্যবহার করলে এটি হতে পারে অমূল্য সহায়ক। কিন্তু প্রযুক্তির অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং বিবেক ও বাস্তবতার আলোকে ব্যবহার করতে হবে একে। নিজের আত্মমর্যাদা, ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হলে, আগে নিজেকে গ্রহণ করতে হবে বাস্তব অবস্থান থেকে।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা ভালো, কিন্তু তা যেন আমাদের স্বকীয়তা ও নিরাপত্তা বিসর্জন দিয়ে না হয়। প্রযুক্তিকে হাতিয়ার বানান, নিজের বিকল্প নয়।

