নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি:
হাওড়া জেলার উদয়নারায়ন ব্লকের নারিকেল বেড়িয়া ও কল্যাণচক গ্রামের বারোয়ারী কালী পূজা।দুই গ্রামের যৌথ আয়োজনে এবারও ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রাচীন শ্মশান কালী মাতার পূজা।চলছে তারই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।মায়ের মূর্তি রং করা,প্যান্ডেল তৈরি,আলোক সজ্জা প্রভৃতিতে ব্যস্ত শিল্পীরা।চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই পুজো।অগ্রহায়ণ মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় এই পূজা।বহু দিন ধরেই এই ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে।একসময় ঘন জঙ্গল ও নির্জন পরিবেশে ঘেরা ছিল মায়ের বেদিটি।তখন এই রাস্তা দিয়ে খুব কম সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করত।কথিত ছিল ওই শ্মশানে নাকি ভূত আছে।তাই ভয়ে মানুষজন ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করত না।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে মানুষের চিন্তা ভাবনাও বদলেছে।সেই ভূতুড়ে পরিবেশেই ১৩৯২ সালে স্বর্গীয় জয়দেব মান্না মহাশয় প্রতিষ্ঠা করেন এই মন্দির।তারপর থেকেই মহা সমারোহের সাথে চলছে এই পুজো।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পূজাকে ঘিরে গ্রামবাসীর আবেগ, বিশ্বাস ও অংশগ্রহণ আরও বেড়েছে।এখানে মায়ের নিত্য পূজা হয় দুইবেলা।এছাড়াও প্রতি মাসের অমাবস্যায় ভোগ প্রসাদ বিতরণ করা হয়।বর্তমানে অগ্রহায়ণ মাসের অমাবস্যা তিথিতে চার দিনব্যাপী নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়।এসবের মধ্য দিয়ে উৎসবের আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে দুই গ্রাম।পুজো উপলক্ষে আয়োজিত হয় বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি।তার মধ্যে রক্তদান শিবির বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
এর সাথে থাকে মায়ের ভোগ প্রসাদ ও অন্নকূটের আয়োজন। যেখানে আশেপাশের গ্রাম থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমান। পূজাকে কেন্দ্র করে বসে মেলা।ছোটদের খেলনার দোকান, ছোট-বড় বিভিন্ন স্টল,নাগরদোলা, নানা রকম খাবারের দোকানে জমে ওঠে উৎসবের রং।
ধূপ-ধুনোর গন্ধ,ঢাকের আওয়াজ, আর গ্রামের মানুষের মিলিত অংশগ্রহণ সব মিলিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও নারিকেল বেড়িয়া ও কল্যাণ চক গ্রামবাসী বৃন্দ সাক্ষী থাকলো এক প্রাণবন্ত, ভক্তিময় ও সামাজিক মিলনের উৎসবের।

