নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিল জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুতি থানার অফিসাররা-একটি লাল গাড়িতে করে গাঁজা পাচার হচ্ছে। খবরটি ছিল একেবারে পাকা। তাই দিন দুয়েক আগেই সুতি থানার সাব-ইন্সপেক্টর মহম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে তৈরি হয় বিশেষ টিম। পরিকল্পনা নেওয়া হয়, গাড়িটি বহরমপুরগামী পথে ধরা হবে।
বিকেল প্রায় সাড়ে চারটে। জঙ্গিপুরের চাঁদের মোড় সংলগ্ন সাই হোটেলের সামনে ব্যস্ত রাস্তার ধারে তখন চলছে নাকা চেকিং। প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে পরীক্ষা চলছে। ঠিক তখনই দূর থেকে দেখা গেল একটি লাল রঙের গাড়ি দ্রুত এগিয়ে আসছে। খবর অনুযায়ী, এটাই সেই সন্দেহভাজন গাড়ি। পুলিশ দল সঙ্গে সঙ্গে ইশারায় সেটিকে থামায়।
গাড়ির চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, গাড়ি তল্লাশিও শুরু হয়। কিন্তু প্রথমে কিছুই পাওয়া গেল না। গাড়ির ভেতর, সিট, ড্যাশবোর্ড সব কিছু খতিয়ে দেখেও কোনো মাদকদ্রব্যের সন্ধান মিলল না। তবু শাহজাহান ও তাঁর দল হাল ছাড়লেন না। সূত্রের তথ্য ভুল নয়, এই বিশ্বাস থেকেই শুরু হল গাড়ির প্রতিটি অংশের চিরুনি তল্লাশি।
অবশেষে রহস্য উন্মোচিত হল। গাড়ির ডিকির নিচের ফাঁপা অংশ থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৩৪ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা। অত্যন্ত কৌশলে মাদক লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা, কিন্তু পুলিশের সতর্কতা ও বুদ্ধির জোরে শেষরক্ষা হল না।
এই অভিযানে বাপন সরকার, প্রেম শঙ্কর পোদ্দার এবং দেবু বিশ্বাস নামের তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে সুতি থানার পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের এই সফল অভিযানে ‘মিশন মাদক’-এর পথে আরও এক বড় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল।

