মিতা জানা, নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: হাওড়া জেলার পেঁড়ো থানার অন্তর্গত বেনুচক গ্রামে অবস্থিত পূর্ণানন্দ মঠ এবার এগারো বছরে পদার্পণ করল তার বাৎসরিক দুর্গাপূজার আয়োজনের মাধ্যমে। আয়োজনে ছিল রিমেক মিডিয়া গ্রুপের সমস্ত সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ, যাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ বছরের দুর্গোৎসব হয়ে উঠেছে এক অনন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র।
ষষ্ঠী থেকে দশমী প্রতিটি দিনই ছিল সকল মানুষের কাছে খুবই স্পেশাল। প্রতিদিন দুপুরে ৫০০ জনেরও বেশি আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও দর্শনার্থীদের জন্য আহারের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া কিছু দুঃস্থ ও অভাবী মানুষদের জন্য বস্ত্র ও চাদর বিতরণের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মন্ডপ সজ্জা, প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা সহ অন্যান্য সকল দিকেই রিমেক মিডিয়া গ্রুপের সদস্যদের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। এ বছর কলাবউ স্নানের শোভাযাত্রা ছিল বিশেষ আকর্ষণীয়, যা সকল মানুষের মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজিত হয় কুমারী পূজা,নারী শক্তির প্রতীকরূপে ছোট্ট কুমারীদের পূজা করে সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা পূজো মণ্ডপে এসে প্রতিমা দর্শন করেন এবং মা দুর্গার প্রসাদ গ্রহণ করেন,পরম শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো পূজো পরিক্রমা। এর মাধ্যমে বাছাই করা হয় সেরা মণ্ডপ ও সেরা প্রতিমা শিল্পীদের, যাঁদের পুরস্কৃত করে দেওয়া হয় উপযুক্ত সন্মান।
পূর্ণানন্দ মঠের কর্ণধার পূর্ণেন্দু চৌধুরীর এই সামাজিক ভাবনাচিন্তা এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর নেতৃত্বে এই মঠ একাধারে ধর্মীয় ও মানবিক কাজের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং আশা রাখি তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সাথে যুক্ত থাকবেন। এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।যেখানে পুজো মনে শুধু আচার ও রীতিনীতি নয়,বরং একটি দৃষ্টান্ত, অবক্ষয়িত সমাজকে একত্রিত করার একটি সেতুবন্ধন।

