পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: দুর্গাপুরে তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি ও রাজ্য আইএনটিটিইউসির সহ-সভাপতি নিখিল নায়েকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শনিবার বিকেলে দুর্গাপুর নগর নিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমলপুর দশেরবাঁধ এলাকায় তাঁর নিজের বাগানবাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় ৫৮ বছরের এই নেতার দেহ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূলের সক্রিয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলের কিছু পর বাড়ির দোতলার সিঁড়ির রেলিংয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় নিখিলবাবুকে দেখতে পান আশপাশের মানুষজন। তাঁর গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল। তবে দেহের ভঙ্গি এবং হাতে খাবারের দাগ দেখে স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ আরও গাঢ় হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিখিলবাবুর পা মাটিতে ঠেকানো অবস্থাতেই ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গিয়েছে। ফলে এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং খুন এমন অভিযোগ তুলতে শুরু করেন অনুগামীরা।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে ভিড় জমাতে থাকেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা। শোকের আবহের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের সরাসরি অভিযোগ নিখিলবাবুকে খুন করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। এমনকি তদন্তে দ্রুত পুলিশ কুকুর নামানোর দাবিও ওঠে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ঘটনাটি রহস্যজনক। একে আত্মহত্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তাঁরা। একই সুর শোনা গিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের গলায়ও। তিনি বলেন, নিখিলবাবু একজন বরিষ্ঠ নেতা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। পুলিশ যেন দ্রুত তদন্ত করে আসল রহস্য সামনে আনে।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন, নিখিল নায়েকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, খুব দ্রুত ঘটনার আসল কারণ প্রকাশ্যে আসবে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মৃত্যুর আগে কার সঙ্গে বা কাদের সঙ্গে বাগানবাড়িতে গিয়েছিলেন নিখিল নায়েক? পুলিশ সূত্রে খবর, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিখিলবাবুর ফোনের কল লিস্টও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সব দিক খতিয়ে দেখেই পুলিশ এগোচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ও অস্বস্তির পরিবেশ। অনেকের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও পুলিশ এখনও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। তদন্তকারীরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন।

