অসীম কুমার মিত্র, রসপুর, হাওড়া: শহর কলিকাতার উপকন্ঠে রয়েছে আর এক কলিকাতা। হাওড়া জেলার ১নং ব্লকের অধীন নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন সমৃদ্ধ গ্রাম কলিকাতা শহর কলিকাতার চাইতেও প্রাচীন।শহর কলিকাতার মতোই গ্রাম কলিকাতা তেও রয়েছে – নিমতলা,ধর্মতলা,বৌবাজার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য স্থান। আজও দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক কলিকাতা গ্রামে আসেন এখানকার ঐতিহাসিক স্থান নীলকুঠি,ধর্মরাজের মন্দির দেখতে। কলিকাতা গ্রামের দুর্গাপুজোও বেশ প্রাচীন। গ্রামে একটিমাত্র দুর্গাপুজো হয়। গ্রামের দেয়াশী পরিবার প্রথম এই গ্রামে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। ভদ্রেশ্বর দেয়াশীর পিতা উমেশ দেয়াশী সম্ভবত তাঁদের বাড়ির সদরে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেন। বেশ কয়েক বছর দেয়াশী পরিবারে পুজো হবার পর কোনো এক সময় এই পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়, পুজো বন্ধ হবার উপক্রম হয়। সে সময় গ্রামেরই কয়েকজন উদ্যোগী মানুষ এগিয়ে আসেন এই পুজোর হাল ধরতে। গ্রামের সকলের সহযোগিতায় তৈরি হয় বারোয়ারী গ্রাম কমিটি। দেয়াশী পরিবার এই গ্রাম কমিটির হাতে পুজোর দায়িত্ব তুলে দেন। গ্রাম কমিটি পুজোর স্থান পরিবর্তন করে নিয়ে আসেন ভক্তি খাঁ-র আশ্রমে, যা আজকের ‘হরিসভাতলা’ নামে পরিচিত। আর এখানেই টানা ৮৮বছর ধরে পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। গ্রাম কমিটি এই পুজোর দায়িত্ব নেবার সময় থেকেই কলিকাতা গ্রামের মাঠ বিলির টাকায় এই পুজো সম্পন্ন হচ্ছে। আজও সেই প্রথাই চালু আছে। দেয়াশী পরিবারের প্রবীন সদস্য ৮৪ বছরের গোপাল দেয়াশী আজও এই পুজোয় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমান গ্রাম কমিটির দু’জন সক্রিয় সদস্য তারাপদ মান্না ও অর্চিতা মান্না এই পুজোর সিংহভাগ দায়িত্ব পালন করেন। এই পুজোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল,সন্ধিপুজোর সময় ১০৮ টি পদ্ম ফুলকে একটি একটি করে মন্ত্রপূত করে দেবীকে নিবেদন করা হয়। বিসর্জনের পর মিষ্টি ও চাল কড়াই ভাজা বিতরণ করা হয়। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোয় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা সম্প্রীতির এক বাতাবরণ তৈরি করে। বিগত কয়েক বছর এই পুজো রাজ্য সরকারের পুজো অনুদানের টাকা পাচ্ছে। পুজো মণ্ডপে বস্ত্র বিতরণ ছাড়াও মাস্ক স্যানিটাইজার বিলি করা হয়। পুজোর ক’টা দিন সামাজিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানও হচ্ছে পূজামণ্ডপে। বর্তমানে থলিয়া গ্রামের মৃৎশিল্পী বিজয় চন্দ্র এখানকার প্রতিমা তৈরি করেন। চিরাচরিত প্রথা মেনে আজও দেবীর বিসর্জন হয় নিকটবর্তী রায়ঘাটে।

