পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: এক সময় ছিল, যখন পাড়ার মোড়ে বনেদী-র বাড়ির পুজো মানেই ছিল এক অন্যরকম আকর্ষণ। বড় জাঁকজমক ছিল না, ছিল আন্তরিকতা, ছিল আপন মানুষদের মিলনমেলা। প্যান্ডেল না থাকলেও, পুজোর সেই গন্ধ, সিঁদুরের আবেশ, ধুনুচি নাচ আর শাঁখের ধ্বনি – সবকিছু মিলিয়ে পূজোটা ছিল মন ছুঁয়ে যাওয়া।
কিন্তু আজ? থিমের চাকচিক্যে হারিয়ে যাচ্ছে সেই সহজ, সরল পূজোর রূপ। এখন পুজো মানেই কোটি টাকার বাজেট, বিদেশ থেকে আসা মন্ডপের সাজ, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ, ড্রোন ক্যামেরা। দর্শনার্থীদের ভিড়ে আপনি তো দূর, পাড়ার মানুষই ঠাকুর দেখা পান না ঠিকমতো।
বনেদী এখনও তাঁর উঠোনে একচালা ঠাকুর বসান, নিজে চাল তৈরি করেন, নিজের হাতে প্রসাদ রান্না করেন। কিন্তু আগের মত পাড়া ভরে যায় না, কেউ আর ‘অঞ্জলি একসাথে দেব’ বলে ডাকতে আসে না।
থিম পুজো নিঃসন্দেহে শিল্পের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, কিন্তু তার চকচকে রোশনাইয়ের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে বনেদী-র মত ঘরোয়া, হৃদয়ছোঁয়া পূজো।
এখন সময় এসেছে ভাবার – আমরা কি শুধু দেখার জন্য পূজো করি, না কি অনুভব করার জন্য? হয়তো উত্তরটা লুকিয়ে আছে বুনি দি-র ছোট্ট উঠোনে, যেখানে আজও মাটির গন্ধে, শঙ্খের শব্দে, আর একচালা ঠাকুরের চোখে লুকিয়ে আছে আসল শারদীয়া।

