পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: আর মাত্র কয়েক মাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এখন প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। কে কোন কৌশলে ময়দানে নামবে, কাদের ভরসায় ভোটযুদ্ধ সামলাবে তা নিয়ে রূপরেখা তৈরি শুরু হয়ে গিয়েছে আগেভাগেই। এরই মধ্যে বিরাট সাফল্যের খবর এনে দিল পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর। শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এই এলাকাতেই বিজেপিকে কার্যত ধরাশায়ী করে তৃণমূল কংগ্রেস ৯-এ ৯ আসনে জয় ছিনিয়ে নিল।
গতকাল, শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভগবানপুর মহম্মদপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন। ফলাফল বেরোতেই চিত্র স্পষ্ট হয়ে যায় সমস্ত আসনেই জয়ী তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা। বিজেপি ও বামপন্থীরা একটিও আসনে জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি। ফলে শুভেন্দু গড়ে এই বিপুল সাফল্য নিয়ে এখন কার্যত উল্লাসে ভাসছে তৃণমূল।
জয়ী প্রার্থীরা হলেন অতুলচন্দ্র পাল, বিশ্বজিৎ মান্না, চয়ন কুমার মন্ডল, দিলীপ কুমার মান্না, গৌড় হরি ভৌমিক, মদনমোহন পাড়িয়া, ইন্দ্রানী মাইতি, রিনা রানী দাস এবং বিমল মন্ডল। ভোটের ফল ঘোষণার পরপরই বিজয়ীদের নিয়ে বড়সড় মিছিল করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। বিজয়ের আবিরে রঙিন হয়ে ওঠে গোটা এলাকা দেখা যায় অকাল হোলির ছবিও।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরকে বিজেপির অন্যতম দুর্গ বলে মনে করা হচ্ছিল। বিধানসভা লোকসভা থেকে শুরু করে একাধিক সমবায় ভোটেও সেই প্রভাব চোখে পড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নির্বাচনে একেবারে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে বিজেপি ও বামেদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল কেবল একটি সমবায় নির্বাচনের সীমারেখায় আটকে নেই। বরং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক গভীর। বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এমন সাফল্য তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল যেমন বাড়াবে, তেমনই বিরোধী শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে।
ভোটের ফলাফলের পর তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই জয় প্রমাণ করে শুভেন্দু গড়ে বিজেপির আসল শক্তি আসলে ম্লান হতে শুরু করেছে। এলাকার মানুষ ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পথে ভরসা রাখছেন। সমবায় নির্বাচনের এই সাফল্য বিধানসভা ভোটের আগে সবুজ শিবিরের জন্য শুভ বার্তা।
অন্যদিকে বিজেপি ও বাম শিবিরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির গড়ে এমন ভরাডুবি আসন্ন ভোটযুদ্ধে দলের কৌশল নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলছে।
ভগবানপুরের এই ফলাফল নিছক একটি সমবায় নির্বাচনের পরিসংখ্যান নয়, বরং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক দিকনির্দেশও বটে। শুভেন্দু গড়ে ৯-এ ৯ আসন তৃণমূলের দখলে যাওয়ায় কার্যত রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্ক আরও জটিল হয়ে উঠল। এখন দেখার, এই জয়ের ধারাকে বজায় রেখে বিধানসভা ভোটে কীভাবে লড়াই করে শাসক দল।

