পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুরে ঘটল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মিড ডে মিলের খিচুড়ির মধ্যে মারণ ফাঁদ হয়ে এল অসাবধানতা। জগৎবল্লভপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জগন্নাথপুর দিঘীরপাড় এলাকার জগন্নাথ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মিড ডে মিল খেতে বসে প্রায় ১৪০ জন খুদের জীবন বিপন্ন হতে বসেছিল। অভিযোগ, ওই দিন দুপুরে যে খিচুড়ি পরিবেশন করা হয়েছিল, তার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পোকা মিশে ছিল। শিশুদের মধ্যে বেশ কয়েকজন না বুঝেই সেই খাবার খেয়ে নেয়। এরপরই এলাকায় দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য।
খুদেরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় মুহূর্তে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের একজোট হয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। তাদের প্রশ্ন, এই ধরনের বিষাক্ত ও নোংরা খাবার পরিবেশন করা হলে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়ভার নেবে কে? যদি আমাদের সন্তানদের কিছু হয়, তবে দায় নেবে কারা? কাঁপা গলায় এই প্রশ্নই ছুঁড়ে দেন তারা।
এই ঘটনার পর যখন মিড ডে মিলের রাঁধুনি তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান সপ্না মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি অকপটে নিজের ভুল স্বীকার করেন। তাঁর কথায় সেদিন চাল ভালো করে না দেখেই রান্না বসিয়েছিলাম। পরে খেয়াল করি খিচুড়ির মধ্যে প্রচুর পোকা রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য আরও ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে অভিভাবকদের মধ্যে।
অন্যদিকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষিকাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আমি কোনওদিন মিড ডে মিল দেখি না। ফলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই দিন প্রায় ১৪০ জন শিশু খিচুড়ি খাওয়ার কথা ছিল। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই খেয়ে নিয়েছিল সেই খাবার। যদিও বড় ধরনের শারীরিক অসুস্থতার খবর মেলেনি, তবুও এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল আতঙ্ক।
স্থানীয়দের দাবি, মিড ডে মিলের খাবারের মান নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করার জন্য প্রশাসনের তরফে স্থায়ী ব্যবস্থা করা দরকার। কারণ শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও অবহেলা বরদাস্ত করা যায় না।

