পূজা মাজী,নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: নন্দীগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত বয়াল ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দ্বিতীয় খণ্ড এলাকায় জলপাই–হলদি নদীর ধার ঘেঁষে বহুদিন ধরে একটি বালিখাদান চালু রয়েছে। বর্তমানে খনন শেষ হওয়ায় খাদানটি ফাঁকা হয়ে পড়েছে এবং সেখানে জমে থাকা জল একপ্রকার পুকুরের রূপ নিয়েছে। এই জলাশয়েই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
খেলার ছলে দুই বোন সলোনি সিং ও পিংকি সিং খাদানের ধারে যায়। ৭ বছরের পিংকি অসাবধানতাবশত জলে নেমে পড়ে এবং গভীরতায় তলিয়ে যেতে থাকে। ছোট বোনকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দিদি সলোনি। কিন্তু তড়িঘড়ির চেষ্টায় সেও পা পিছলে জলে পড়ে যায়। চারিদিক থেকে ছুটে আসেন স্থানীয় মানুষজন। অনেক কষ্টে দুই বোনকে উদ্ধার করে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা ছোট বোন পিংকি সিংকে মৃত ঘোষণা করেন। বড় বোন সলোনি ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে।
এ ঘটনার পর গ্রামবাসীর অভিযোগ, এই বালিখাদান সরকারি না বেসরকারি সঠিক তথ্য তারা জানেন না। তবে এত বড় খাদান খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। আশপাশে কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই, ফলে প্রতিদিনই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এখানে খেলতে আসে। তারা দাবি তুলেছেন খাদানের চারপাশে দ্রুত ঘেরাটোপ বা নিরাপত্তা দেওয়াল তৈরি করা প্রয়োজন, নইলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে এই ঘটনার পর। তৃণমূলের অভিযোগ, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর আশীর্বাদে বিজেপির মদতে হলদি নদীর ধার ধরে অবৈধ বালি তোলার কাজ চলছে। সেই খাদানগুলোই এখন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি অভিযোগটি একেবারেই অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, অবৈধ খাদান নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের প্রশাসনের কাজ। বিধায়ক বা রাজনৈতিক দলের ভূমিকা এখানে নেই। বরং প্রশাসনই টাকার বিনিময়ে এসব বালি খাদান নির্দ্বিধায় চালাতে দিচ্ছে।

