সুইতা পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি : বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রথিতযশা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, কবি, নাট্যকার ও সাংবাদিক। তাঁর জন্ম ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার নিকটবর্তী আমগ্রামে এক বাঙালি হিন্দু পরিবারে। পিতা কালীপদ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক এবং মাতা মীরা দেবী ছিলেন গৃহিণী। যদিও আমগ্রাম তাঁর জন্মস্থান, তাঁদের পৈতৃক নিবাস ছিল পাশের মাইজপাড়া গ্রামে।
সুনীলের প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু হয় কলকাতার টাউন স্কুলে। এরপর তিনি মাইজপাড়ার বীরমোহন বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, দমদম মতিঝিল কলেজ এবং দমদম সিটি কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
সাহিত্যের নানা শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পূর্ব-পশ্চিম’, ‘সেই সময়’, ‘প্রথম আলো’, ‘একা এবং কয়েকজন’ প্রভৃতি। আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘অর্ধেক জীবন’ পাঠকমহলে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ছোটগল্প এবং প্রবন্ধেও তিনি সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘ছবির দেশে কবিতার দেশে’, ‘আত্মপ্রকাশ’, ‘সরল সত্য’, ‘অর্জুন’, ‘কবি ও নটীকি’ ইত্যাদি।
নাট্যকার হিসেবেও সুনীলের অবদান প্রশংসনীয়। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘প্রাণের প্রহরী’, ‘রাজসভায় মাধবী’, ‘মালঞ্চমালা’, ও ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি’। সাহিত্যের প্রতিটি ধারায় তাঁর অসাধারণ অবদান বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর প্রয়াত হন।
তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

