সুইতা পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি : ভারতের রাজনীতিতে এক অনন্য নাম মমতা ব্যানার্জি। তিনি কেবল একজন মুখ্যমন্ত্রী নন, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক, আপসহীন এক সংগ্রামী নেতৃত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার প্রতিকূলতা এসেছে, কিন্তু কখনও মাথা নত করেননি। বিজেপির মতো শত শত ‘ভাইরাস’ অর্থাৎ চক্রান্ত, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি একাই বুক চিতিয়ে লড়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী হিসেবে বাংলার মাটিতে যেভাবে তিনি বিজেপির বিস্তার রুখেছেন, তা এক কথায় অভূতপূর্ব। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোটা দেশ যখন ভেবেছিল বাংলা দখলের খেলা সেরে ফেলবে বিজেপি, তখন মমতা ব্যানার্জি একাই হয়ে উঠলেন প্রতিরোধের দূর্গ। তাঁর একটাই বার্তা “বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়।” সেই স্লোগান শুধু রাজনীতি নয়, বাংলার মানুষের আত্মপরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
মমতার এই লড়াই শুধুমাত্র রাজনৈতিক ছিল না, তা ছিল আদর্শের, মানুষের অধিকার রক্ষার এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে এক শক্ত অবস্থান। বিজেপি যখন ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করে, তখন মমতা একজোট করেন হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ সবাইকে। তাঁর সাহসিকতা ও মানবিকতা বারবার প্রমাণ করে দিয়েছে তিনি কেবল রাজনীতিবিদ নন, এক জননেত্রী।
দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নেমে পড়া, কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো মমতার রাজনৈতিক জীবনের এ সবই এক একটি অধ্যায়, যেখানে উঠে আসে একজন অদম্য সংগ্রামী নারীর গল্প।
তাঁর ভাষায় “বিজেপির মতো ১০০টা ভাইরাস একাই সামলাতে পারি!” এ কথার মধ্যে রয়েছে আত্মবিশ্বাস, লড়াকু মনোভাব এবং দায়িত্ববোধ। তিনি জানেন, এই লড়াই কেবল তাঁর নিজের নয়, বরং বাংলার মানুষের অধিকার, সংস্কৃতি ও সম্মানের রক্ষার লড়াই।
মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্ব আজ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যে আগুন তাঁর হৃদয়ে, তা আজও বাংলার প্রতিটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে জ্বালিয়ে দেয় প্রতিবাদের দীপশিখা। তিনি সত্যিই এক অদম্য শক্তি একা, অদম্য, অপরাজেয়।

