পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে, কাশফুলে ছেয়ে গেছে মাঠের প্রান্তর। বাতাসে ভেসে আসছে ঢাকের বাদ্যি, কানে কানে বলে দিচ্ছে—“মা আসছেন!” হ্যাঁ, হাতে গোনা আর মাত্র কটা দিন, তারপরই আসছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ—বাঙালির প্রাণের উৎসব, দুর্গা পূজা।
এই আগমনী লগ্নে সারা বাংলা যেন এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে। শহর থেকে গ্রাম, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মেট্রো শহর—সবখানে চলছে প্রস্তুতির তোড়জোড়। প্রতিমা গড়ার কাজ শেষ পর্যায়ে, শিল্পীরা তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন দেবীর মুখে। প্যান্ডেলের কাঠামো তৈরি হয়ে গেছে, আলো, থিম, সাউন্ড—সব কিছুতেই লাগানো হচ্ছে চূড়ান্ত ছোঁয়া।
বাজারে কেনাকাটার ভিড়, নতুন পোশাকের খুশি আর মুখে মুখে একটাই কথা—”পূজা কবে?” রেডিও-টিভিতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজছে আগমনী গান, “আশার আলো চোখে নিয়ে মা এসো মা, এসো মা…”। মণ্ডপের কাছে ঢাকিদের তালিম, তাদের কাঠি হাতে বাজানোর প্রস্তুতি, যেন আকাশকেও আন্দোলিত করছে।
শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, দুর্গা পূজা বাঙালির আত্মার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আনন্দের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। এটা শুধুই মায়ের আগমন নয়, এ যেন এক সামাজিক মিলনমেলা, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, বয়স, পেশা ভুলে সবাই এক সুরে বাঁধা পড়ে।
এই কয়েকটা দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকে বছরের পর বছর। সেই বোধনের সন্ধ্যা, সেই সিঁদুরখেলা, অঞ্জলি দেওয়া, কুমারীপূজা—সবই যেন হৃদয়ের একান্ত প্রার্থনার রূপ।
সারা বাংলায় এখন শুধু একটাই সুর—”মা আসছেন!” এই আগমনী বার্তায় হৃদয় জেগে উঠছে নতুন আশায়। হাতে গোনা আর মাত্র কটা দিন, তারপরই ধরণীতে নামবেন মহিষাসুরমর্দিনী। আবার নতুন করে ভরে উঠবে জীবন, জেগে উঠবে বিশ্বাস—অসুর নিধনের পর বিজয় আসবেই।

