সুইতা পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা ২০২৫ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্র এখন পুজো ঘিরে চূড়ান্ত উন্মাদনা। শারদোৎসবের আনন্দে মুখরিত রাজ্যের প্রতিটি কোণা। একদিকে মানুষজনের মনে উৎসবের আবেগ, অন্যদিকে পুজো উদ্যোক্তাদের ব্যস্ততা— সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক রঙিন, প্রাণবন্ত আবহ।
কুমোরটুলিসহ রাজ্যের নানা প্রান্তে মৃৎশিল্পীদের এখন ঘুম নেই। প্রতিমার গায়ে রঙের শেষ তুলির আঁচড়, অলংকার বসানো, মুকুটে ঝালর লাগানো— চলছে রাতদিন এক করে। শিল্পীদের ভাষায়, “সময় কম, কাজ প্রচুর। প্রতিটি প্রতিমায় যেন প্রাণ থাকে, সেই চেষ্টাতেই মগ্ন আমরা।”
এবারের পুজোয় থিম ও আলোকসজ্জায় থাকছে চমক। কারও থিম বাংলার গ্রামীণ জীবনযাত্রা, তো কেউ তুলে ধরছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। কলকাতার শোভাবাজার, বাগবাজার, কুমারটুলি থেকে শুরু করে হাওড়া, শিলিগুড়ি কিংবা দুর্গাপুর— প্রতিটি জায়গাতেই প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কাঠামোর গায়ে লাগছে কাপড়, বাঁশ, ত্রিমাত্রিক শিল্পকর্ম আর চোখ ধাঁধানো আলোর বাহার।
তবে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়— এটি আবেগ, এটি সংস্কৃতি। নতুন পোশাক, দোকানে ভিড়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, রাতভর মণ্ডপ পরিক্রমা— বাঙালির এই পুজো যেন জীবনের রঙিন ছুটির দিনগুলোকে একজোট করে দেয়। এবারের দীর্ঘ বর্ষার পর এমন উৎসবের আমেজে মানুষের মনে নতুন করে আলো জ্বলেছে।
পুলিশ-প্রশাসনও তৎপর। প্রতিটি বড় মণ্ডপে বসানো হচ্ছে সিসিটিভি, ভিড় সামলাতে বাড়ানো হয়েছে ট্রাফিক নজরদারি। উদ্যোক্তারা বলছেন, “দর্শনার্থীদের আরাম ও নিরাপত্তার কথাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
সব মিলিয়ে, বাংলার প্রতিটি অলিতে গলিতে এখন বাজছে একটাই সুর— “মা আসছেন, আনন্দে মেতেছে বাংলা।”

