পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:- এক সময় কলকাতার রাস্তায় হলুদ ট্যাক্সির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘চাপেন বাবু?’ — এই ডাকের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল শহরের আত্মা। কিন্তু অ্যাপ ক্যাবের আগমন সেই সোনালী অধ্যায়ে প্রথম ধাক্কা দেয়। দ্রুত পরিষেবা, সহজ বুকিং এবং ভাড়া নিয়ে নির্দিষ্টতা— সবকিছুই যাত্রীদের অ্যাপ নির্ভরতার দিকে ঠেলে দেয়।
এতদিন পর্যন্তও কিছুটা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন হলুদ ট্যাক্সির চালকরা। কিন্তু এখন হাওড়া-শিয়ালদা-বিমানবন্দর সংযোগকারী মেট্রো পথের সম্প্রসারণ যেন সেই লড়াইয়ের শেষ অধ্যায় রচনা করে ফেলল।
নতুন মেট্রো রুটগুলো সরাসরি শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিকে জুড়ে দিচ্ছে। ফলে যেখানে আগে হাওড়া বা শিয়ালদা থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে যাত্রীরা ট্যাক্সির উপর নির্ভর করতেন, এখন তাঁরা সস্তা, সময়নিষ্ঠ এবং নির্ভরযোগ্য মেট্রোর পথ বেছে নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকলেও যাত্রী মিলছে না, ভাড়া তো দূরের কথা। এক এক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও একটা ট্রিপ মিলছে না বলে জানাচ্ছেন অনেক ট্যাক্সিচালক।
কলকাতা ট্যাক্সি ইউনিয়নের এক সদস্য জানান, “অ্যাপ ক্যাবের সঙ্গে আমরা কোনওদিন পেরে উঠিনি। এখন মেট্রো এসে আমাদের কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে দিল। সরকার যদি কোনও রকম সহায়তা না করে, তাহলে হয়তো আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই শহর থেকে হলুদ ট্যাক্সি উঠে যাবে।”
শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, এই সংকট সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবও ফেলছে। একদিকে যেমন বহু পুরনো চালকেরা কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন, অন্যদিকে শহরের ঐতিহ্য হিসেবে ধরা এই হলুদ গাড়িগুলি হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রকট হয়ে উঠেছে।
প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোর অগ্রগতি স্বাভাবিকভাবেই নতুন পথের সন্ধান দেয়। কিন্তু তার ফাঁকে যদি পুরনো কোনও পরিচিত রঙ মুছে যায়, তার হাহাকারও থেকেই যায়। হলুদ ট্যাক্সির আজকের লড়াই সেই বদলে যাওয়া শহরের এক নীরব দলিল।

