পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:- শারদোৎসবের আগমনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে রাজ্য জুড়ে। মহালয়ার আগে থেকেই ঘরে ঘরে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হলেও সাধারণ মানুষের মুখে নেই হাসি। কারণ, প্রতিদিনই আকাশচুম্বী হচ্ছে বাজারদর। সবজি থেকে মাছ-মাংস কোনও কিছুই সাধারণ নাগরিকের নাগালের মধ্যে থাকছে না।
বাজারে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, আলু-কুমড়ো, টমেটো, পটল, ফুলকপি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম একলাফে বেড়ে গিয়েছে। কোথাও আলুর কেজি ৩৫-৪০ টাকা, আবার কুমড়ো ৫০ টাকায় গড়াচ্ছে। টমেটো ৬০-৭০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে, পেঁয়াজও ৪০-৪৫ টাকার ঘরে। শুধু সবজিই নয়, মাছ-মাংসের দামও হু হু করে বেড়ে চলেছে। ইলিশ তো উৎসবের দিনে স্বপ্নের সামিল, সাধারণ চিংড়িও ছুঁই ছুঁই করছে ৭০০ টাকা কেজি।
খুচরো বাজারে এক বিক্রেতা বললেন, “সরবরাহে টান পড়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে চাষাবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারেই দামের আগুন। আমরা চাই না, কিন্তু খুচরো বাজারেও সেটা বেড়েই যাচ্ছে।”
অন্যদিকে, মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্ষোভ উগরে পড়ছে “পুজোর আগে কিছু নতুন জামা-জুতো কিনব, মিষ্টি-মিঠাই খাব এই আনন্দটাই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বাজারে ঢুকলেই মনে হচ্ছে উৎসব নয়, আতঙ্কের দিন আসছে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৃষ্টির কারণে পরিবহণ ব্যাহত হওয়া, জ্বালানির বাড়তি খরচ ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। তবে তাঁদের আশঙ্কা, পুজোর ভিড় ও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও দাম চড়তে পারে।
সরকারি মহল থেকে অবশ্য জানানো হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শীঘ্রই পদক্ষেপ করা হবে। কিছু বাজারে সুলভ মূল্যে আলু-পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও উৎসবের আমেজ আগেভাগেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
উৎসবের আনন্দের আগে যদি এই মূল্যবৃদ্ধি কমানো না যায়, তবে কল্পারম্ভের ঘণ্টাধ্বনি অনেকের কাছে বিষাদের সুর হয়ে বাজবে।

