পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া:- ২৬ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে শোভারানী মেমোরিয়াল কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠান, যা আয়োজিত হয় মাই ভারত হাওড়া’র উদ্যোগে এবং নির্ভীক আশ্রয় চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’র সহযোগিতায়। মিনিস্ট্রি অফ ইয়ুথ অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড স্পোর্টস বিভাগের তিনটি বিশেষ কর্মসূচি— ওয়ার্কশপ অন ফ্ল্যাগশিপ স্কিম, নেশামুক্ত ভারত অভিযান এবং এক পের মা কে নাম—এর ওপর ভিত্তি করে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। এরপর ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’ বিষয়ে একটি মননশীল অঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা নেশামুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরে।
সেমিনারের মূল পর্বে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত আয়ারল্যান্ড নিবাসী রাটগার কর্টেনহর্স্ট নেশা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করার উপায় নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। ডাঃ শ্রী কুমারজ্যোতি ব্যানার্জি ও অধ্যাপক ডঃ সমীর মন্ডল নেশার প্রভাব ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। বিখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অনীল কুমার জয়সাওয়াল তার চিকিৎসাজনিত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এবং জগৎবল্লভপুর থানার এসআই ড্রাগ সংক্রান্ত প্রশাসনিক তথ্য তুলে ধরেন। এই পর্ব শেষে সকল ছাত্রছাত্রী ও উপস্থিত অতিথিরা নেশামুক্ত থাকার অঙ্গীকার করে শপথ বাক্য পাঠ করেন।
দ্বিতীয় পর্যায়ে, মাই ভারত হাওড়ার ডিস্ট্রিক্ট ইয়ুথ অফিসার মিস অরুণিমা কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্কিমগুলির সুবিধা গ্রহণে যুবসমাজ কীভাবে এগিয়ে আসতে পারে, তা বিশদে ব্যাখ্যা করেন। নির্ভীক আশ্রয় ট্রাস্টের সম্পাদক বাসুদেব মন্ডল স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া স্কিম এবং স্কিল ইন্ডিয়ার সেন্টার হেড সুবন দে বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি, অধ্যাপক ডঃ লোকেশ মন্ডল বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘এক পের মা কে নাম’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কলেজ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়। এরপর অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদ তুলে দেওয়া হয় এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদেরও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক গৌতম মিশ্র, ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে। এই উদ্যোগ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সমাজকে সচেতন করার এক দৃঢ় পদক্ষেপ।

