নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএন বি:- ২০২৫ সালের দুর্গাপূজা ঘিরে গোটা বাংলায় যেন আবার ফিরে এসেছে এক নতুন প্রাণের ছোঁয়া। কয়েক সপ্তাহ আগেও টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার আশঙ্কায় অনেকেই চিন্তিত ছিলেন—মণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা তৈরি, আলোকসজ্জা সব কিছু নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। তবে প্রকৃতির রূঢ়তা কিছুটা কমে যাওয়ায় এখন আবার চারদিকে ফিরে এসেছে উৎসবের চেনা আমেজ।
এবারের দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং মানুষের জীবনে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় জল নামার পর নতুন করে শুরু হয়েছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। কাঠ, কাপড়, বাঁশ ও নানা রঙের থিমে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপগুলি। থিমেও এসেছে বৈচিত্র্য—পরিবেশ সচেতনতা, নারীশক্তি, কৃষকের জীবন, গ্রামীণ সংস্কৃতি ইত্যাদি উঠে আসছে নানা শিল্পে।
কুমোরটুলি সহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিমা শিল্পীরা বন্যার মধ্যেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন দেবী দুর্গা ও তার সন্তানদের মূর্তি। মাটির প্রতিমায় রংতুলির ছোঁয়ায় ধরা দিচ্ছে অপার সৌন্দর্য। বন্যার কারণে কিছু দেরি হলেও এখন দিনরাত এক করে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
বাজারে নতুন পোশাক, প্রসাধনী, পূজার উপকরণ কেনার জন্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। ছোট বড় দোকানে আবার ফিরেছে কোলাহল। শিশুরা নতুন জামাকাপড় পেয়ে উচ্ছ্বসিত, আর বড়রা ব্যস্ত অতিথি আপ্যায়ন আর রান্নাবান্নার পরিকল্পনায়।
স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক। জলাবদ্ধতা বা আকস্মিক আবহাওয়ার পরিবর্তন মোকাবেলায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সহায়তার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
দুর্গাপূজা মানেই শুধু দেবী আরাধনা নয়, এটি সামাজিক মিলনের এক মহা উৎসব। প্রতিবছর যেমন, এবারও পাড়া-মহল্লায়, হাউজিং কমপ্লেক্সে, স্কুল-কলেজে সকলে মিলে একত্রে উদযাপন করছে আনন্দ, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রকৃতির রুদ্রতা পেরিয়ে মানুষের মনে ফিরে এসেছে একটাই বিশ্বাস—”অসুর যতোই শক্তিশালী হোক, দেবী দুর্গার মতো শুভশক্তিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।” এই আশাই এবারের দুর্গাপূজাকে করে তুলেছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত।

