সংবাদদাতা, আরএনবি:- বাংলার ইতিহাসে বহু রাজ্য উঠে এসেছে ও হারিয়ে গেছে। তবে কিছু কিছু রাজ্যের কথা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে তাদের শাসক বা শাসিকার বীরত্ব ও শৌর্যের কারণে। তেমনই একটি মধ্যযুগীয় রাজ্য ছিল ভুরসুট, যার রাজধানী ছিল গড়ভবানীপুর। এই স্থানের মাহাত্ম্য বাড়িয়ে তুলেছিলেন এক মহীয়সী নারী – রানী ভবশঙ্করী।
গড়ভবানীপুর ছিল কেবল একটি রাজধানীই নয়, এটি ছিল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল। এই রাজ্য তখনকার সময়ে বহির্শত্রুদের আক্রমণের মুখে বারবার পড়লেও, ভবশঙ্করীর দৃঢ় নেতৃত্বে রাজ্য টিকে ছিল দৃঢ়ভাবে। তিনি কেবল একজন শাসকই ছিলেন না, বরং একজন সুদক্ষ যোদ্ধা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন।
ভবশঙ্করীর শৌর্য ও বীরত্ব সেই সময়কার মুঘল সম্রাট আকবরের কানে পৌঁছে যায়। তিনি তাঁর সাহসিকতায় এতটাই অভিভূত হন যে, রানী ভবশঙ্করীকে “রায়বাঘিনী” উপাধিতে ভূষিত করেন। এই উপাধি শুধু তার সাহসের স্বীকৃতি ছিল না, এটি ছিল নারীর শক্তি ও সাহসের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি।
রানী ভবশঙ্করী একাধিক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, নিজের রাজ্যকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং প্রজাদের মঙ্গলের জন্য নানা সংস্কারমূলক কাজ করেছিলেন। তাঁর রাজত্বে ভুরসুট রাজ্য ছিল শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধিশালী। গড়ভবানীপুর ছিল একদিকে যেমন দুর্গ, অন্যদিকে তেমনি ছিল প্রশাসনিক কেন্দ্র, যেখানে ভবশঙ্করী নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন।
আজকের দিনে গড়ভবানীপুর হয়তো শুধুই একটি নাম, হয়তো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে তার গৌরবময় অতীত। তবে রানী ভবশঙ্করীর মতো ব্যক্তিত্ব ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন। বাংলার সাহসিনী নারীদের মাঝে তিনিও এক অন্যতম নাম, যিনি দেখিয়েছিলেন—নারী মানেই শুধু সংসারের রক্ষক নয়, তিনি প্রয়োজনে রাজ্য রক্ষার জন্যও হন অকুতোভয় রণচণ্ডী।
ভবশঙ্করীর মতো বীর রমণী আমাদের ইতিহাসকে করেছে সমৃদ্ধ, গর্বিত করেছে সমগ্র নারীজাতিকে এবং তাঁদের স্মরণ করেই আমরা গড়তে পারি একটি সাহসী ভবিষ্যৎ।

