সংবাদদাতা, আরএনবি:- স্বাবলম্বী হওয়া নিঃসন্দেহে একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই স্বাবলম্বীতার নামে যখন আত্মকেন্দ্রিকতা আর সুবিধাবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন তার ফলাফল হয়ে দাঁড়ায় মর্মান্তিক। এ যুগে ‘নিজের জীবন, নিজের সিদ্ধান্ত’—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম। কিন্তু এই দৌড়ে পেছনে পড়ে যাচ্ছে সমাজের একটি অমূল্য অংশ—বৃদ্ধ মা-বাবারা। ফলে আজ আমাদের চারপাশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি সেখানে আশ্রয় নেওয়া বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যাও বেড়ে চলেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
এক সময় ছিল, যখন পরিবারের প্রবীণ সদস্যরাই হতেন ঘরের আশীর্বাদ। তাদের অভিজ্ঞতা, ভালোবাসা ও স্নেহে গড়ে উঠত পারিবারিক বন্ধন। কিন্তু আজকের ব্যস্ত নগরজীবনে বাবা-মা যেন হয়ে উঠেছেন ‘বোঝা’। সন্তানদের ক্যারিয়ার, স্বাধীনতা আর পারিবারিক ব্যয় ভারে তারা এতটাই ক্লান্ত যে মা-বাবার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবার সময়টুকুও নেই।
স্বাবলম্বী হওয়ার এই যাত্রায় একলা থাকার সিদ্ধান্ত যতটা স্বাধীনতার প্রতীক, ততটাই দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তির নামান্তর। আজ অনেকেই সংসার গঠনের বদলে একক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন, যা একটি দিক থেকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও, তার পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব মারাত্মক। মা-বাবার বার্ধক্যে পাশে থাকার দায়িত্ব যাদের ওপর বর্তায়, সেই সন্তানরাই আজ একে একে তাদের ঠাঁই দিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে।
এই পরিস্থিতির জন্য এককভাবে কাউকে দোষ দেওয়া যায় না। সমাজ, শিক্ষা, কর্মজীবন ও নৈতিক অবক্ষয়—সব মিলিয়ে এই চিত্র তৈরি হয়েছে। তবে আমরা যদি সত্যিই “স্বাবলম্বী” হতে চাই, তাহলে কেবল আর্থিকভাবে নয়, নৈতিক ও মানবিক দিক থেকেও স্বাবলম্বী হতে হবে। যাদের স্নেহে বড় হয়েছি, বার্ধক্যে তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের আসল মানবিক দায়িত্ব।
বৃদ্ধাশ্রম যেন শেষ ঠিকানা না হয়ে ওঠে, বরং পরিবার হোক সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল—এই হোক আমাদের চেতনা।

