মিতা জানা ,হাওড়া :-রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল ২০২২ সালে । দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তা বন্ধ রাখা হয়েছিল ৩ বছর ধরে। জুনের ১৮ তারিখে হাই কোর্টের নির্দেশে কাজ শুরু হবার কথা ছিল ১ আগস্ট থেকে । হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গেল কেন্দ্রীয় সরকার। গত ১ আগস্ট থেকে প্রকল্প ফের শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ কেন্দ্র। চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রায় তিন বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ কার্যত স্থগিত। তৃণমূল কংগ্রেস বারবার কেন্দ্রকে দায়ী করেছে এই পরিস্থিতির জন্য। কিন্তু কেন্দ্রের অভিযোগ, বিপুল দুর্নীতি হয়েছে এই প্রকল্পে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের টাকা অন্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে, মৃতদের নামেও তোলা হয়েছে অর্থ, এমনকি খাতায় কলমে প্রকল্প দেখিয়েও টাকা তোলা হয়েছে। এই কারণেই কেন্দ্র টাকা আটকে দেয়।
২০২২ সালের আগের অভিযোগকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলে। তবে গত জুনে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানায়, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না। কেন্দ্র চাইলে নানা রকম শর্ত জুড়ে প্রকল্প চালু রাখতে পারে। আদালতের নির্দেশ ছিল “যাঁরা কাজ পাচ্ছেন না বা কাজ করেও মজুরি পাচ্ছেন না, তাঁদের কেন ভুগতে হবে?” প্রয়োজনে অভিযোগ ওঠা চার জেলা বাদ দিয়ে অন্যত্র কাজ চালু রাখা হোক।
কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দল ২০২৪ সালে রাজ্যে তদন্ত চালান ।তাতে জানা গেছে অন্তত ৬১৩ কোটি টাকার গরমিল ধরা পড়েছে। রাজ্য সরকার তার মধ্যে প্রায় ২১০ কোটি টাকা উদ্ধার করতে পেরেছে বলে দাবি করে। পরে আদালতের নির্দেশে চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধি ছাড়াও ক্যাগ ও অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের প্রতিনিধি রাখা হয়।
এর আগেই বিষয়টি নিয়ে মামলা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, প্রকল্পের টাকার নয়-ছয় হয়েছে। সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। খেতমজুর সংগঠনও অভিযোগ করেছিল, ডিসেম্বর ২০২১ থেকে মজুরি বন্ধ। বকেয়া মজুরি অবিলম্বে মেটানো ও সুদ দেওয়ার দাবিও ওঠে।
এখন নজর সুপ্রিম কোর্টে। হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল থাকে , নাকি নতুন নির্দেশে আবার আটকে যায় প্রকল্প, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

