সুরোজ ছড়ি, হাওড়া:উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও তিনি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন, তবু সময় ও প্রেক্ষাপিটে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র সরকারের ভূমিকাকে ঘিরে।
সূত্রের খবর, রাজ্যসভায় বিচারপতি যশবন্ত ভর্মার বিরুদ্ধে বিরোধীরা যে ইমপিচমেন্ট নোটিশ জমা দেন, তা গ্রহণ করার পরেই পরিস্থিতি ঘোরাতে শুরু করে। নোটিশে ৬৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর ছিল, যার মধ্যে রাহুল গান্ধীর নামও ছিল। এই নোটিশ গ্রহণের পরে ধনখড়ের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী—স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধনখড়কে ফোনে জানান যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাকি তাঁর এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন। উত্তরে ধনখড় বলেন, তিনি রাজ্যসভার নিয়ম মেনেই কাজ করছেন।
সরকার আসলে লোকসভা থেকেই যশবন্ত ভর্মার ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করতে চেয়েছিল এবং বিরোধীদের আগ বাড়িয়ে নেওয়া পদক্ষেপে সরকার পিছিয়ে পড়ে। রাজ্যসভায় ধনখড়ের সিদ্ধান্তে সরকারের প্রস্তুতি কিছুটা ধাক্কা খায় বলেই মনে করা হচ্ছে।সোমবার দুপুরে রাজ্যসভায় বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির (BAC) বৈঠক হয়। কিন্তু বিকেলে হওয়া BAC-র দ্বিতীয় বৈঠকে বিজেপির নেতারা অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ধনখড়ের ভূমিকার জেরেই বিজেপি এমন কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে।
সব মিলিয়ে, উপরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পিছনে নিছক শারীরিক অসুস্থতা নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

