পায়েল পাখিরা, হাওড়া: অসমে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য বিতর্কিত NRC (ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস)-এর প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকে কার্যত অস্বীকার করলেন আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটার বাসিন্দা অঞ্জলি শীল। তিনি সাফ জানালেন, অসম সরকারের কাছ থেকে তাঁর নামে কোনও নোটিশ তিনি এখনও পর্যন্ত পাননি। তাহলে সেই চিঠি সংবাদমাধ্যমের হাতে এল কীভাবে – উঠছে বড় প্রশ্ন।
অঞ্জলিদেবী বলেন, মঙ্গলবার হঠাৎ কিছু সাংবাদিক আলিপুরদুয়ার থেকে ফোন করে তাঁকে জানান যে তাঁর নামে একটি NRC নোটিশ এসেছে। অথচ তিনি নিজে কোনও চিঠি দেখেননি। “যদি সত্যিই চিঠি এসে থাকে, তা হয় পুলিশ সুপারের কাছে থাকবে, নতুবা আমার কাছে পৌঁছনোর কথা,” বলেন তিনি। “আমি এখনও অসমে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যাতে প্রয়োজন হলে উপযুক্ত কাগজপত্র জমা দিতে পারি।”
ফালাকাটার জটেশ্বর এলাকায় এক টিনের ঘরে স্বামী নিত্য শীলের সঙ্গে বসবাস করেন অঞ্জলি শীল। তাঁদের পরিবার অত্যন্ত সাধারণ, জীবিকা সাদামাটা। নিত্যবাবু জানান, তাঁদের আদি বাড়ি অসমে এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের NRC ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অসমের কোকরাঝাড় জেলার ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে ৩ জুলাই তারিখে ওই নোটিশটি জারি হয়েছে। কিন্তু সেটি সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ অঞ্জলি শীলের হাতে না এসে কীভাবে সংবাদমাধ্যম বা মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনায় তৃণমূলের উদ্দেশে তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন। তাঁর বক্তব্য, “এই ঘটনা প্রমাণ করে তৃণমূল নাগরিকত্বের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়েও রাজনৈতিক খেলা খেলছে। আমার প্রশ্ন, একটি নোটিশ যা ফালাকাটার বাসিন্দাকে উদ্দেশ্য করে জারি হয়েছে, তা কোচবিহার পুলিশ সুপারের কাছে কীভাবে গেল? এবং মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সেটি আগে পৌঁছল কী করে, যাঁর নামে চিঠি, তাঁর আগে?”

