সায়ন্তন মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা,হাওড়া; সাত সকালে হাওড়া পুরসভায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। হাওড়া পুরনিগমের ভিতরে আচমকাই ভেঙে পড়ল একটি গাছ। তাতে চাপা পড়ে মৃত্যু হল দুই পুরসভার কর্মীর। মৃতদের নাম উমেশ মাহাতো ও নুর মহম্মদ। এরমধ্যে একজন পুরসভার স্থায়ী এবং অপরজন অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। জানা যাচ্ছে, ঘটনাটি ঘটে সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ অফিস খোলার সময়। পুর প্রশাসকের দফতরের সামনে একটি ইউক্যালিপটাস গাছ ছিল যেটি নিচে দাঁড়িয়ে থাকা উমেশ ও নুরের উপর ভেঙে পড়ে। সরে যাওয়ার সময় ও সুযোগ কোনটাই না পাওয়ায় দু’জনেই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। পুরসভার ভিতরে থাকা সহকর্মীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পৌঁছয় হাওড়া থানার পুলিশ। পুরসভার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে আসেন। দুই মৃতদেহ উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় । এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পুরসভার অনেক কর্মীই জানিয়েছেন, ইউক্যালিপটাস গাছটি দীর্ঘদিন ধরেই হেলে গিয়ে ঝুঁকে পড়েছিল রাস্তায় পড়েছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, যদি গাছটি অফিস টাইমে ভেঙে পড়ত, তাহলে আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত। এদিন অফিস শুরু হওয়ার ঠিক আগেই গাছটি পড়ে যাওয়ায় বড়সড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেল। বিষয়টি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ , এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। পুরসভার গাফিলতিতেই দু’জন কর্মীর জীবন গেল। বহুবার বলা হয়েছিল গাছটি বিপজ্জনক, কিন্তু কেউ কান দেয়নি। ঝড়-বৃষ্টি কিছুই হয়নি, তবু গাছ ভেঙে পড়ল—এর দায় কে নেবে? তাই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। হাওড়া পুরনিগমের পুর প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তী বলেন, গাছটি সম্পূর্ণ সজীব ছিল। ভাঙার কোনও সম্ভাবনা দেখা যায়নি, তাই কাটা হয়নি। এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও আকস্মিক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।দুর্ঘটনার পর বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা দ্রুত গাছ কাটার কাজে নেমে পড়েন।

