সায়ন্তন মন্ডল,নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা: সম্প্রতি পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ লেখা একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে ৬২ বছর বয়সি এক প্রবীনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃতের জামিনের আবেদন পৌঁছেছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট পর্যন্ত। তবে উচ্চ আদালতও সেই জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। এই নিয়ে আদালতের স্পষ্ট রায়, দেশবিরোধী আচরণের জেরে ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে উক্ত স্বাধীনতার অধিকারের অধীনে সুরক্ষা চাওয়ার অধিকার নেই অভিযুক্তের।উল্লেখ্য, ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ লেখা ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করা ধৃতের নাম আনসার আহমেদ সিদ্দিকি। সেই ব্যক্তির জামিন খারিজ করেন বিচারপতি সিদ্ধার্থ। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়া এই দেশে নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ আদালত দেশবিরোধী মানসিকতার এই ধরনের কাজের প্রতি উদার ও সহনশীল। এই পর্যায়ে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া যায় না।’এরপর বিচারপতি আরও বলেন, ‘স্পষ্টতই আবেদনকারী যে কাজ করেছে, তা সংবিধান এবং সাংবিধানিক আদর্শের প্রতি অসম্মানজনক। তার এই কাজ ভারতের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। সমাজবিরোধী ও ভারতবিরোধী পোস্ট শেয়ার করে ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে অভিযুক্ত। আবেদনকারী একজন প্রবীণ নাগরিক। তার বয়সে থেকে স্পষ্ট যে সে স্বাধীন ভারতে জন্মগ্রহণ করেছে। তার দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং দেশবিরোধী আচরণ তাকে ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখিত স্বাধীনতার অধিকারের সুরক্ষা চাওয়ার অধিকার দেয় না।’ছাতারি বুলন্দশহর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৯৭ (জাতীয় সংহতি ক্ষুণ্ন করে এমন কাজ), ১৫২ (ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্নকারী কাজ) ধারায় ২০২৫ সালের ১৯৬ নম্বর মামলায় অভিযুক্ত এই আনসার আহমেদ সিদ্দিকি। সেই মামলাতেই জামিনে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সে।শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, আবেদনকারী ২০২৫ সালের ৩ মে ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছিল। তিনি বলেন, ‘আবেদনকারী একজন বৃদ্ধ। তার বয়স আনুমানিক ৬২ বছর এবং তার চিকিৎসা চলছে।’ অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের আইনজীবী আবেদনকারীর জামিনের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, যে আবেদনকারীর আচরণ দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং আবেদনকারী জামিনের মেয়াদ পাওয়ার যোগ্য নন। তিনি আরও বলেন, যে ভিডিয়োটি সেই বৃদ্ধ শেয়ার করেছে, সেটি পাহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরেই পোস্ট করা হয়েছিল। সুতরাং এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে আবেদনকারী ধর্মীয় কারণে সন্ত্রাসবাদীদের কাজকে সমর্থন করেছিল। শুনানির পর আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলে, ৫১-এ (ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য সংবিধান মেনে চলা এবং এর আদর্শ ও প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সংগীতকে সম্মান করা এবং উপধারা (গ) অনুসারে সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা ও রক্ষা করা, ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা বজায় রাখা।এফআইআর অনুসারে, আবেদনকারী ফেসবুকের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট শেয়ার করেছে যেখানে জিহাদ প্রচারের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলা হয়েছিল এবং তার ‘ভাইদের’ পাকিস্তানি ভাইদের সমর্থন করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।

