পায়ের পাখিরা,নিজস্ব সংবাদদাতা, হওড়া:- ওড়িশার পুরীতে রথযাত্রার সময় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। রবিবার ভোররাতে গুন্ডিচা মন্দিরের নিকটবর্তী সারধবলীতে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত তিনজনের। পুরীর জেলা শাসক সিদ্ধার্থ এস সোয়াইনের বরাতে পিটিআই জানিয়েছে, ভোর প্রায় ৪টা নাগাদ বহু ভক্ত মন্দিরের চারপাশে জড়ো হন। সেই সময় পরিস্থিতি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে এবং হুড়োহুড়ির মধ্যে বেশ কয়েকজন ভক্ত মাটিতে পড়ে যান, যাদের পদদলিত করে চলে যায় অন্যান্যরা।
ঘটনাস্থল থেকে আহতদের তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছ’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বালিপাটনার প্রতী দাস (৫২), গোদাভাঙ্গার বাসন্তী সাহু (৪২), এবং ভুবনেশ্বরের প্রেমকান্ত মোহান্তি (৭৮)। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। প্রতী দাসের স্বামী সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, ঘটনার সময় কেউ এগিয়ে আসেননি— না দমকল, না উদ্ধারকারী দল, এমনকি হাসপাতাল কর্মীরাও নীরব ছিলেন। অন্যদিকে, পুরীর স্থানীয় বাসিন্দা স্বাধীন কুমার পন্ডা প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন। তিনি জানান, তিনি ভোর তিনটে পর্যন্ত মন্দিরের কাছেই ছিলেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশের প্রস্তুতি একেবারেই অপ্রতুল ছিল।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, মন্দিরে ভিআইপিদের প্রবেশের জন্য বিশেষ রাস্তাও তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে সাধারণ ভক্তদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও ছিল দুর্বল। অনেক অননুমোদিত গাড়ি মন্দিরের কাছাকাছি ঢুকে পড়েছিল বলেও অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে পুরীর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব। এই উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ ভক্ত জড়ো হন জগন্নাথ মন্দিরে, যেখান থেকে ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টেনে নিয়ে যাওয়া হয় গুন্ডিচা মন্দির পর্যন্ত। সেখানেই এক সপ্তাহ অবস্থান করবেন তাঁরা, এরপর ১ জুলাই মন্দিরে ফিরে আসবেন।

