পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতাঃ- পুরীর জগন্নাথ মন্দির: বিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর রান্নাঘর ও মহাপ্রসাদের রহস্য
ওড়িশার পুরী শহরে অবস্থিত জগন্নাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, এটি এক অপার বিস্ময়ের আধার। এখানে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার পূজা হয়, আর প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের জন্য তৈরি হয় পবিত্র প্রসাদ – যা ‘মহাপ্রসাদ’ নামে পরিচিত।
মহাপ্রসাদ: দেবী লক্ষ্মীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত
অন্যান্য তীর্থস্থানে পাওয়া প্রসাদকে সাধারণত ‘প্রসাদ’ বলা হলেও, জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদকে বলা হয় ‘মহাপ্রসাদ’। কারণ, এটি শুধুমাত্র ভগবান জগন্নাথকে নিবেদন নয়, বরং বিশ্বাস করা হয়—দেবী লক্ষ্মী নিজে এই ভোগ প্রস্তুত করার তত্ত্বাবধানে থাকেন। ভক্তরা একে অত্যন্ত পবিত্র ও অলৌকিক বলেই মানেন।
বিশ্বের বৃহত্তম রান্নাঘর
এই মন্দিরের রান্নাঘরকে বিশ্বের বৃহত্তম বলে ধরা হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রাঁধুনি ও ৩০০ সহকারী মিলিতভাবে হাজার হাজার ভক্তের জন্য খাবার তৈরি করেন। মাটির হাঁড়িতে রান্না হওয়া এই ভোগের সংখ্যা ছুঁয়ে যায় ৫৬ রকম খাবারে।
বিস্ময়কর বিষয় হলো—এখানে কখনও খাবারের ঘাটতি হয় না, আবার কোনো খাবার নষ্টও হয় না। বিশেষ অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এলেও প্রতিটি ভক্তের জন্য প্রসাদ যথেষ্ট থাকে।
অলৌকিক রান্নার পদ্ধতি
এই রান্নাঘরে ব্যবহৃত হয় এক বিশেষ রীতি, যা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা মেলানো কঠিন। সাতটি মাটির হাঁড়ি একটির উপর একটি সাজিয়ে রান্না করা হয়। যেখানে স্বাভাবিকভাবে নিচের হাঁড়িটি আগুনের কাছাকাছি থাকায় আগে রান্না হওয়ার কথা, সেখানে এখানে ঠিক উল্টোটি ঘটে—সবচেয়ে উপরের হাঁড়ির খাবার আগে রান্না হয়, তারপর ধীরে ধীরে নিচের হাঁড়িগুলির।
প্রথম নিবেদন মা পার্বতীকে
এই মহাপ্রসাদ প্রথমে ভগবান জগন্নাথকে নিবেদন করা হয় না—প্রথমে তা নিবেদিত হয় মা বিমলাদেবীকে, যাঁকে মা পার্বতীর একটি রূপ হিসেবে মানা হয়। এরপর সেই প্রসাদ নিবেদিত হয় ভগবান জগন্নাথকে এবং পরে তা বিতরণ হয় ভক্তদের মাঝে।

