পায়েল পাখিরা,নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা:- বিহারের ঔরঙ্গাবাদ জেলায় ঘটে গেছে এক চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা। মাত্র ৪৫ দিন আগে বিয়ে হয়েছিল বছর কুড়ির গুঞ্জা দেবীর। কিন্তু তার প্রেম ছিল অন্য কারও সঙ্গে — যিনি আর কেউ নন, তারই কাকা, ৫৫ বছরের জীবন সিং। এই সম্পর্কের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্বামী প্রিয়াংশু। অভিযোগ, সেই বাধা সরাতেই খুন করা হয় তাঁকে।
পুলিশ জানায়, গুঞ্জা দেবী ও জীবন সিং একে অপরকে ভালোবাসতেন এবং বিয়ে করতে চাইতেন। কিন্তু পরিবার তা মেনে নেয়নি। ফলে গুঞ্জার পরিবারের চাপে পড়ে তাঁকে বিয়ে করতে হয় নবীনগর থানার অন্তর্গত বারওয়ান গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়াংশুকে। কিন্তু এই জোর করে চাপানো সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি গুঞ্জা।
এরপরই চক্রান্তের সূত্রপাত। পুলিশ জানায়, গুঞ্জা ও জীবন সিং মিলে ভাড়াটে খুনিদের কাজে লাগিয়ে প্রিয়াংশুকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। ২৫ জুন, প্রিয়াংশু যখন ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন তিনি স্ত্রী গুঞ্জাকে ফোন করে জানান স্টেশন থেকে বাড়ি পৌঁছতে বাইকে কাউকে পাঠাতে। কিন্তু সেই পথই হয়ে ওঠে মৃত্যুর রাস্তা। নবীনগর স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। কিন্তু গুঞ্জা দেবীর আচরণে সন্দেহ তৈরি হয়, যখন তিনি হঠাৎ করে বাপের বাড়ি চলে যেতে চায়। এরপর তার মোবাইলের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে দেখা যায়, কাকা জীবন সিংয়ের সঙ্গে তার ঘন ঘন যোগাযোগ ছিল। শুধু তাই নয়, জীবন সিংয়ের কল রেকর্ড ঘেঁটে পুলিশ জানতে পারে, তিনি নিয়মিতভাবে বন্দুকধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গুঞ্জা দেবী এবং দুই ভাড়াটে আততায়ীকে গ্রেফতার করেছে। তবে কাকা জীবন সিং এখনও পলাতক, তার খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড মেঘালয়ের আলোড়ন তোলা মধুচন্দ্রিমার সময়ের খুনের ঘটনাটিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, যা সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। বিহারের এই ঘটনা আবারও সামনে আনল ভালোবাসা, পারিবারিক বিরোধ আর নিষ্ঠুরতার ভয়াবহ মিশেল।

