সায়ন্তন মণ্ডল,কলকাতাঃ- শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে যদি কেউ পুরনো দিনের কলকাতাকে মনে করতে চান, তবে অনেকেই অনুভব করবেন, ‘আমার গল্প ফুরালো নটে গাছটি মুড়োলো’-র মর্ম। সেই মান্ধাতার আমল থেকেই যেখানে চোখে পড়ত সারি-সারি হলুদ্ অ্যাম্বাসাডর ট্যাক্সি, আজ সেখানে সাদা-কালো আধুনিক ক্যাবের আধিপত্য।বদলাচ্ছে কলকাতা, আর সেই বদলের প্রথম ঢেউ এসে পড়েছে শহরের এই চেনা বাহনে।স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর রঙই যেন এঁকে দিচ্ছে মহানগরীর বদলচিহ্ন। হলুদ ট্যাক্সি শুধু একটুকরো পরিবহন নয়, বরং বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দুর্গাপূজার রাত হোক বা জামাইষষ্ঠীর দুপুর কিংবা রাত-বেরাতে স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার একমাত্র ভরসা ছিল হলুদ ট্যাক্সি। কিন্তু আজ সরকারি নিয়মে তুলে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক পুরানো গাড়ি। রিমেকের সাক্ষাৎকারে এক ট্যাক্সিচালক বলেন, ‘১৫ বছরের পুরানো ট্যাক্সি রাস্তায় চালানো নিষিদ্ধ হওয়ায় বাধ্য হয়েই গাড়ি তুলে নিতে হচ্ছে।আবার নতুন অ্যাম্বাসাডর তৈরিও বন্ধ,তাই বদলের সুযোগও নেই। এখনকার সাদা ক্যাবগুলি হয়তো আরও আধুনিক, আরও কার্যকর কিন্তু এদের গায়ে শহরের কোন গল্প লেখা নেই। শুধু আমরাই নয়, যাদের জীবনের এক টুকরো জায়গা জুড়ে ছিল হলুদ গারির জানলার ধারে বসে বাড়ি ফেরার শান্তি, তাদের কাছেও এই পরিবর্তন অনেককিছুই হারানোর মতো।’ কলকাতা যে সত্যিই বদলে যাচ্ছে, ঠিক কতটা গভীর এক অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে চুপিসারে, তা এই স্ট্যান্ডের পাশে দাঁড়ালেই টের পাওয়া যায়, যেখানে হলুদ স্মৃতি ফিকে হয়ে যাচ্ছে সাদা-কালো বাস্তবের ভিতরে।

