নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: দামোদর নদী,যে নদীর জলেই ভরসা করে বর্ধমান-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ পানীয় জল হিসাবে ব্যবহার করেন,চলে চাষবাস ও কৃষিকাজ।অথচ সেই দামোদরকেই আজ ধীরে ধীরে বিষিয়ে তোলা হচ্ছে ,শিল্পবর্জ্য ও নোংরা আবর্জনা ফেলে। পাশাপাশি,অবৈধ ভাবে চলছে বালি লুট। এর ফলে‘বাংলার দুঃখ’-কে আরও দুঃখী করে তুলছে চোরাকারবারিরা।এই পরিস্থিতিতে নদী ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বর্ধমানে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন লোকশিল্পীরা। লোকগানের সুরে,সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে নদী দূষণের ভয়াবহতা,বালি লুটের ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দামোদরকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা। গ্রামগঞ্জে লোকগানের আসরে উঠে আসছে-“নদী বাঁচলে বাঁচবে জীবন”এই বার্তা। তবে সচেতনতার ডাকের মাঝেও বাস্তব চিত্র উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের দাবি,বহুবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার হয়নি। নদীর একাধিক অংশে প্রতিদিনই কারখানার বর্জ্য ও নিকাশি জল সরাসরি মিশে যাচ্ছে দামোদরে। এর ফলে নদীর জল দূষিত হয়ে যাচ্ছে,কমছে মাছের সংখ্যা,ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিকাজ।
অন্যদিকে,রাতের অন্ধকারে চলছে অবাধে বালি উত্তোলন। ভারী ভারী গাড়িতে করে নদী বুক থেকে বালি তুলে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর জেরে ব্যাহত হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ,বাড়ছে নদীভাঙনের আশঙ্কা। বহু চাষের জমি ও বসতবাড়ি ইতিমধ্যেই ঝুঁকির মুখে।পরিবেশবিদদের মতে,লোকগানের মতো সাংস্কৃতিক আন্দোলন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ালেও প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অবিলম্বে অবৈধ বালি খাদান বন্ধ,শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নদী রক্ষায় কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে। একদিকে লোকগানের সুরে দামোদর বাঁচানোর আহ্বান, অন্যদিকে লাগামছাড়া দূষণ ও লুট-এই দুই দ্বন্দ্বেই আজ দাঁড়িয়ে ‘বাংলার দুঃখ’দামোদর।

