নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: আজ ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, দেশজুড়ে পালিত হলো শিক্ষক দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে কলতান পাবলিক স্কুল ও রিমেক মিডিয়া কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো এক হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠান — “শিক্ষক শ্রদ্ধা ও কবিতা পাঠ এবং সংস্কৃতি অনুশীলন”। পুরো আয়োজনটি সহযোগিতায় ছিল পিএএসপি।
সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল উচ্ছ্বাস ও আনন্দের ছাপ। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় স্কুলের শিক্ষিকাদের সম্মিলিত সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। তাঁদের কণ্ঠে গাওয়া গানের সুর যেন শ্রদ্ধার সুর হয়ে ধ্বনিত হচ্ছিল — সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি এক গভীর কৃতজ্ঞতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছিল।
এরপর মঞ্চে আসে স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা। তারা একে একে কবিতা পাঠ করতে শুরু করে। শিশুদের কণ্ঠে শুনতে পাওয়া গেল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা নানা কবিতা। কেউ কেউ আবার স্বরচিত কবিতাও পাঠ করে। এই ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েদের সরল অথচ গম্ভীর উচ্চারণে উঠে আসে শিক্ষকের গুরুত্ব, তাঁদের অবদান, ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার একান্ত অনুভব।
একটি শিশুর কবিতায় শোনা গেল—
“আপন আলোতে আলোকিত করে,
শিখিয়ে দেন জীবন পাঠ,
আপনি আছেন বলেই আজও
আমরা হাঁটি আলোর সাথে একসাথে।”
এই পঙক্তিগুলো যেন পুরো অনুষ্ঠানটির আবেগকে এক বাক্যে তুলে ধরল।
মূল আকর্ষণে ছিল অভিভাবকদের কবিতা পাঠ। তাঁরা শিক্ষক ও শিক্ষিকার প্রতি নিজেদের শ্রদ্ধা ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন কবিতার ভাষায়। অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানের প্রথম শিক্ষাগুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেন। এক মা তাঁর কবিতায় বলেন, “শিক্ষক মানেই আলোর পথপ্রদর্শক, যাঁরা সন্তানেরা কখনো নিজের নয় তবুও তাঁদের সন্তান করে তোলেন।” এমন হৃদয়স্পর্শী কবিতা শ্রোতাদের মধ্যে অনেকে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
এছাড়াও পরিবেশিত হয় নৃত্য, আবৃত্তি ও গীতিনাট্য। প্রতিটি পরিবেশনাতেই ফুটে উঠেছিল শিক্ষকদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
অনুষ্ঠান শেষে কলতান পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, “একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবই পড়ান না — তিনি জীবনের পথ দেখান। আজকের দিনে আমাদের কর্তব্য তাঁদের সেই অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা।”
রিমেক মিডিয়া কাউন্সিলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, আগামী দিনেও এমন উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে শিক্ষার গুরুত্ব ও শিক্ষকদের সম্মান ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
এইদিনের অনুষ্ঠান শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল না — এটি ছিল শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক অন্তর থেকে উৎসারিত শ্রদ্ধাঞ্জলি। শিশুরা শিখল কৃতজ্ঞতা ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণে কীভাবে গড়ে ওঠে একজন প্রকৃত মানুষ।

