পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: শিক্ষক দিবসের আগের দিনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরায়। স্কুল মানে জ্ঞানার্জনের পবিত্র স্থান। কিন্তু সেই শিক্ষাঙ্গনেই শিক্ষকের হাতে একাধিক ছাত্রছাত্রীর উপর অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। ঘটনাটি ঘটেছে এগরার অস্তিচক সুরেন্দ্র যোগেন্দ্র বিদ্যাপীঠে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক বিপ্লব পণ্ডা অষ্টম শ্রেণির ক্লাসে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের পড়া শোনাতে বলেন। অভিযোগ, ছাত্রীরা পড়া না পারার অজুহাতে শিক্ষক হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর বেধড়ক মারধর শুরু করেন তিনি। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দাবি, ওই সময় তাঁর আসলে কোনও ক্লাস ছিল না। হঠাৎ করেই ক্লাসে ঢুকে পড়া হয়েছে কি না জানতে চান। বেশ কয়েকজন উত্তর দিতে না পারলে শুরু হয় অমানবিক শাস্তি।
এই নৃশংস মারধরে আহত হয় প্রায় ২১ জন ছাত্রছাত্রী। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ইতিমধ্যেই আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর আতঙ্কে ভুগছে গোটা স্কুল।
এই খবর গ্রামবাসীদের কানে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। এলাকাবাসী স্কুল চত্বরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, স্কুলের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভিতরে তালাবন্দি করে রেখে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানান গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শিক্ষকের অমানবিক আচরণের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কয়েকদিন আগেই মধ্যপ্রদেশে এক শিক্ষককে দেখা যায় খুদে পড়ুয়াকে অকথ্য নির্যাতন করতে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে টেবিলের নিচে চেপে ধরে কাঠের লাঠি দিয়ে বারবার পেটাচ্ছেন শিক্ষক। শিশুটি ব্যথায় চিৎকার করলেও শিক্ষক দমে যাননি। উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরাও অবাক হয়ে দৃশ্যটি দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেনি তাকে বাঁচাতে।
ক্রমবর্ধমান এইসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শিক্ষকের দায়িত্ববোধ নিয়ে। ছাত্রছাত্রীদের উপর এভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো কতটা ন্যায়সঙ্গত? গ্রামবাসীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তি প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও শিশু এভাবে অমানবিক অত্যাচারের শিকার না হয়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেল—স্কুল কি সত্যিই ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ?

