মিতা জানা, নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি : পূর্ব বর্ধমান জেলার নশরতপুর। বুধবার ভোরবেলা, চারদিক তখনও আবছা অন্ধকারে ঢাকা। বহুদিনের অভ্যাস,ভোরবেলা উঠে ফুল তোলা।তাই প্রতিদিন কার অভ্যাস মতোই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ফুল তুলতে বিমল কৃষ্ণ সাহা। তারপর ফিরে বাড়ির সামনে পড়ে থাকা জঞ্জাল পরিষ্কার করবেন। প্রতিবেশীদের চোখে তিনি প্রতিদিন সকালে নিয়ম মেনে এই রুটিন পালন করতেন। কিন্তু আজ বুধবার সেই অভ্যাসই হয়ে দাঁড়াল মৃত্যুফাঁদ! কিছুক্ষণ পরই রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির কাছে মিলল তাঁর নিথর দেহ ।
মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন, পরনের পোশাক খোলা।গোটা
দেহ অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।পুরো ঘটনাটাই যেন রহস্যময়। পরিবারের দাবি, এটা কোনও ভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না, খুন করা হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর খবরে স্ত্রী সন্ধ্যা সাহা শোকাহত।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমি শুধু চাই এই ঘটনার বিচার চাই’। মৃতের পুত্রবধূ জয়শ্রী সাহা বলেন, ‘বাড়ির সামনের ময়লা পরিষ্কার করতে আমরা বারণ করতাম, উনি শুনতেন না। এই ঘটনা দেখে তো মনে হচ্ছে না উনি পড়ে গিয়েছেন। এটা কোনও ভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। কেউ যদি আমার শ্বশুরমশাইকে মেরে থাকে তাহলে তাঁর শাস্তি চাই’।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দেহ একেবারে উলঙ্গ অবস্থায় পড়ে ছিল। পরনে থাকা গামছাটাও খোলা ছিল।এলাকাবাসীর আশঙ্কা ওই ব্যক্তি কে খুন করা হয়েছে।সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে এলাকার লোকেদের মধ্যেও ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সকালের শান্ত পরিবেশ মুহূর্তেই যেন আতঙ্কে ভরে ওঠেছে।
অনেকের মতে , ‘সত্যিই যদি খুন হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের এলাকাতেই খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সঠিক তদন্ত হোক’। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে নাদনঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। হাজির হন থানার আইসি নিজে। এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি।মৃতদেহ ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট এলেই বিষয়টা স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

