সুইতা পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:১৮৭৯ সালের ৭ ডিসেম্বর মামারবাড়ী কুষ্টিয়া জেলার কয়া গ্ৰামে জন্ম নেন যতীন্দ্রনাথ মুখার্জী। তাঁর পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার রিসখালী গ্ৰামে। তাঁর পিতার নাম উমেষ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম শরৎ শশী। যিনি পরবর্তীকালে “বাঘা যতীন” নামে পরিচিত হন। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারান তিনি। মায়ের স্নেহ ও কঠোর শিক্ষার মধ্য দিয়েই বড় হন। মা তাঁকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও যোগেন্দ্র বিদ্যাভূষণের লেখা পড়তে দেন, যা তাঁর মনে জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে।
পড়াশোনা করতেন কৃষ্ণনগর অ্যাংলো-ভার্নাকুলার স্কুলে এবং পরে কলকাতার সেন্ট্রাল কলেজে চারুকলা নিয়ে। যৌবনে স্বামী বিবেকানন্দের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাঁর সামাজিক ভাবনায় অনুপ্রাণিত হন। বিবেকানন্দের শিক্ষায় তিনি উপলব্ধি করেন – মানবতার প্রকৃত মুক্তির জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
শুরুতে এক ব্যারিস্টারের সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করলেও ধীরে ধীরে বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯০৬ সালে একা হাতে বাঘ মারার পর থেকেই তিনি “বাঘা যতীন” নামে খ্যাত হন। পরে অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তরের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। হাওড়া গ্যাং মামলায় গ্রেপ্তার হলেও প্রমাণের অভাবে খালাস পান।
যুগান্তরের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন জেলায় বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন। রাসবিহারী বসু তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন। অর্থ সংগ্রহের জন্য বিপ্লবীরা ট্যাক্সিক্যাব ও নৌকা ডাকাতির মতো অভিযান চালায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জার্মানির কাছ থেকে অস্ত্র আনার পরিকল্পনাও হয়, কিন্তু ব্রিটিশরা তা ধরে ফেলে এবং সমুদ্র উপকূল সিল করে দেয়।
অবশেষে ১৯১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বালাসোরের কাছে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন যতীন ও তাঁর সাথীরা। টানা ৭৫ মিনিট ধরে গুলির লড়াই চলে। অনেক সাথী আহত বা নিহত হন, যতীনও গুরুতর জখম হন। পরের দিন, ১০ সেপ্টেম্বর, তিনি বালাসোর হাসপাতালে শহিদ হন।
মাত্র ৩৫ বছর বয়সে নিজের জীবন উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন বাঘা যতীন। তাঁর অমর বাণী- “আমরা মরব, জগত জাগবে” আজও স্বাধীনতার সংগ্রামের চেতনা জাগিয়ে তোলে।

