পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ বিধানসভায় এবার বেশ কয়েকটি সংশোধনী বিল পেশ হওয়ার কথা আছে । আজ, সোমবার তা নিয়েই বসেছিল বিধানসভার বাদল অধিবেশন। প্রথমার্ধে হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব , িঠক তখনই বিধানসভার কক্ষ উত্তাল হয়ে ওঠে। বিজেপি বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সময়ই হট্টগোল শুরু করে । এই সময় ক্রধ হয়ে ওঠে রাজ্য বিধানসভা। আর এই ঘটনার পরই স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাওকে সাসপেন্ড করেন। তাই এর প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেন বিজেপি বিধায়করা। এভাবেই ওয়াকআউট সংস্কৃতি বজায় রাখলেন গেরুয়া বিধায়করা।
আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর চড়ান কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে। তখন বিজেপি হট্টগোল করতে শুরু করে, ফেল তখনই মনোজ ওঁরাওকে সাসপেন্ড করা হয়। যদিও সেটা কতদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপি বিধায়করা সাসপেন্ডের প্রতিবাদে বিধানসভা ওয়াকআউট করেন। আগেও বহুবার এই পথেই তাঁদের হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। পদ্ম বিধায়করা বিধানসভার সিঁড়িতে বসে তখন বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ।সামনে তখন রাখা ছিল তুলসি গাছ। বিজেপি বিধায়কদের দাবি, ন্যায্য বিষয়ে কথা বলতে যখন চেয়েছিলন তখনই তাঁদের সাসপেন্ড করে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিজেপির শিক্ষক সেলের বিধায়করা মুলতুবি প্রস্তাব জমা করেন। বিজেপি বিধায়করা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেত চান। ২৬ হাজার চাকরিহারাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিধানসভায় আলোচনা চান তাঁরা। অধ্যক্ষ জানান, যেহেতু এই বিষয়টি বিচারাধীন তাই তা নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা সম্ভব নয়। তখনই স্লোগান দিয়ে চিৎকার করতে থাকেন বিজেপি বিধায়করা । আর বিধানসভা বিজেপি বিধায়করা ওয়াকআউট করেন । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘১০০ দিনের টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। বাংলার বকেয়া এবং পাওনা টাকা তারা পাঠিয়ে দিচ্ছে অন্য রাজ্যে। একাধিক কমিশন এখানে এসে যা যা জানতে চেয়েছে, সে সব তথ্য তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারপরও পাওনা নিয়ে ছলচাতুির চলছে।’
তাছাড়া শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং শঙ্কর ঘোষরা মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সময়ই উঠে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন। পাল্টা জবাব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিজেপি বিধায়কদের তোপ দাগেন তিনি। বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আগে কাউন্সিলর নির্বাচনে জিতে আসুন। আমাকে তো জোর করে হারানো হয়েছে, আমি জিতে দাঁড়িয়ে আছি। বাংলা ভাষায় কথা বললে কিছু রাজ্যে হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি বলে বাসিন্দাদের বিতাড়িত করা হচ্ছে। কেন্দ্রে চোরেদের সরকার চলছে। এমন অসঙ্গতি অন্য রাজ্যেও দেখা গিয়েছে। কিন্তু টাকা আটকানো হয়নি। বাংলাকে বঞ্চনা করা হচ্ছে।’

