নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি:
দেখতে মাটির তৈরি খেলনা পুতুল,কিন্তু তার ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে এক জটিল অঙ্ক।সেই অঙ্ক মিললেই বেজে উঠবে বাঁশি।এই রহস্যময় কাজটাই নিপুণ হাতে করে চলেছেন হাওড়ার শিল্পী রাজকুমার দেবনাথ।কয়েক দশক ধরে তিনি পলি মাটি দিয়ে তৈরি করছেন এমন বাঁশি পুতুল,যা একদিকে যেমন শিল্প, তেমনি অন্যদিকে বিজ্ঞানের নিখুঁত মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে।
এই মাটির পুতুলের মধ্যে থাকে একটি ছোট ও একটি বড় গর্ত।দুই গর্তের মধ্যে সঠিক দূরত্ব ও নির্দিষ্ট সূত্র মেনে তৈরি না হলে শব্দ বেরোয় না।শুধু মেধা নয়,দরকার বছরের পর বছর অভিজ্ঞতা।সেই অভিজ্ঞতার জোরেই রাজকুমার মুহূর্তের মধ্যেই এই জটিল অঙ্ক মিলিয়ে দেন।
স্কুলজীবনে থাকতেই বন্ধুর মায়ের কাছ থেকে প্রথম বাঁশি পুতুল বানানো শেখেন রাজকুমার। এরপর শৈশব পেরিয়ে কৈশোর, যৌবন,আজ প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সেও একই নিষ্ঠায় তিনি তৈরি করে চলেছেন এই শিল্পকর্ম।
এই বাঁশি পুতুলের ইতিহাসও কম চমকপ্রদ নয়।গবেষকদের মতে, এর যোগ রয়েছে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতার সঙ্গে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রায় তিন থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে থেকেই এই ধরনের পুতুলের অস্তিত্ব ছিল। অর্থাৎ রাজকুমারের হাত ধরে আজও জীবন্ত হয়ে উঠছে প্রাচীন সভ্যতার স্মৃতি।
পশু-পাখির আদলে ১০ থেকে ১২ রকমের বাঁশি পুতুল তৈরি করেন তিনি।ছোট আকারের পুতুলগুলো অনেকেই হারের লকেট হিসেবেও ব্যবহার করছেন।এই বিশেষ বাঁশি পুতুল ও হারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বাজারে।
প্রাচীন ইতিহাস, জটিল অঙ্ক আর নিখুঁত শিল্পকর্ম,সব মিলিয়ে হাওড়ার রাজকুমার দেবনাথ আজও মাটির পুতুলে প্রাণ ফেরাচ্ছেন,বাঁশির সুরে বাজিয়ে দিচ্ছেন হাজার বছরের ঐতিহ্য।

