সায়ন্তন মণ্ডল,নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা; মহেশতলার রবীন্দ্রনগরের সংঘর্ষের ঘটনায় গতকালই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গ্রেফতার করেছিল ৪ জনকে আর হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল ১২ জনকে। এদিকে পরে আরও ২৪ জনকে গ্রেফতার করলো রাজ্য পুলিশ। এলাকাজুড়ে জারি রয়েছে ১৬৩ ধারা। বুধবারের সহিংসতার পরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রবীন্দ্রনগর থানা এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বাড়তি পুলিশবাহিনী। আজ সেই এলাকায় প্রায় সব দোকানপাটই বন্ধ। পুলিশের তরফে এলাকায় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। পাশাপাশি এখনও আতঙ্কের পরিবেশ থাকার ফলে ভুয়ো খবর না ছড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। বুধবার মহেশতলার সংঘর্ষে জখম হয়েছিলেন একাধিক পুলিশকর্মী। রবীন্দ্রনগর থানার ঠিক পিছন দিকে আক্রা ফটক বাজারে কার্যত তাণ্ডব চলেছিল। স্থানীয় একদলের ইটবৃষ্টিতে পুলিশকর্মীরা একটা সময় দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন। তাণ্ডব চালানো গোষ্ঠীর হিংসার শিকার হয়েছিল রাস্তায় থাকা বাইকও, ভাঙা হয়েছিল সিসি ক্যামেরা। এই আবহে পুলিশ পিছু হঠে। উত্তেজিত জনতা রবীন্দ্রনগর থানার কাছেই জটলা শুরু করে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ফাটানো হয় টিয়ার গ্যাসের সেল। গলিতে গলিতে ঢুকে পড়ে দুষ্কৃতীদের তাড়া করে পুলিশ। অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় এক মন্দির কমিটির জমি নিয়ে বিবাদের জেরে স্থানীয়দের একটি গোষ্ঠী ওপর পক্ষের ওপরে চড়াও হয়। মন্দির কমিটির জমিতে ভাঙচুর চলে। একটি গোষ্ঠীর মালিকানাধীন দোকানপাট, বাড়িঘরেও হামলা চালায় অপর পক্ষ। পুলিশ আটকাতে গেলে পুলিশকেও মার খেতে হয়েছিল। এলাকায় বহু বাড়ির ছাদ থেকেও ইট ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। এই আবহে মহেশতলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অপরদিকে শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় উস্কানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে প্রশাসনকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। ফলত রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে।

