মিতা জানা, নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি : কংগ্রেস দফতরে ভাঙ্গচুরের ঘটনায় জালি বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। ট্যাংরা এলাকার ফ্ল্যাট থেকে গতকাল মধ্যরাতে গ্রেফতার করলো এন্টালি থানার পুলিশ।কদিন ধরে চোর পুলিশ খেলা চলছিল বেশ।অবশেষে ধরা পড়লেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। গত মাসের ২৯ তারিখে প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যালয় বিধান ভবনে ভাঙ্গচুর ও টায়ার দিয়ে আগুণ জ্বালানোর উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ,অবশেষে ধরা পড়লেন।
ছেলের পর অবশেষে পুলিশের জালে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। কয়েকদিন ধরেই কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম ঘিরে চলছিল জোরালো বিতর্ক । ঘটনার পর থেকেই ‘পলাতক’ ছিলেন তিনি। অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে শহরের ট্যাংরা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। আজ, বুধবার শিয়ালদা আদালতে তাঁকে তোলা হবে।
শুক্রবার সকালের দিকে বিধান ভবনে কংগ্রেসের রাজ্য সদর দফতরে হামলা হয়। অভিযোগ উঠেছিল , সুযোগ বুঝে একদল কর্মী ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পোড়ানো হয় কংগ্রেস পতাকা এবং নেতাদের ছবি ছিঁড়ে আগুন দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে ,এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন রাকেশ সিং নিজে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন। ঘটনার পরপরই এন্টালি থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অস্ত্র আইনের একাধিক ধারাতেও মামলা করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাকেশের ছেলে শিবম সিং-সহ তাঁর তিনজন সহযোগী বিজয়প্রসাদ ধানুক, সন্তোষকুমার রাজভর ও দিব্যেন্দু সামন্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। কিন্তু মূল অভিযুক্ত রাকেশ সিং ছিলেন অধরা।
তাঁর বাড়িতে একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েও হদিশ পাচ্ছিলেন না পুলিশ। নিজে গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও সামাজিক মাধ্যমে তিনি সক্রিয় ছিলেন। পুলিশ যখন তাঁর ছেলে শিবমকে গ্রেফতার করেন ,তখন প্রকাশ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে ধরতে না পেরে ইচ্ছা করে তাঁর পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে পুলিশ। স্ত্রী ও কন্যাকেও হেনস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকেও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাকেশ। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে ট্যাংরা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাঁকে সমর্থকদের উদ্দেশে স্লোগান দিতেও শোনা যায়, ‘নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ’। এ ছাড়াও পুলিশের ভ্যানে ওঠার আগে তিনি জানান, কাউকে ভয় পান না তিনি। প্রসঙ্গত, ভাঙচুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনীতির উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে। দলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে রাকেশকে ফাঁসানো হচ্ছে। অন্যদিকে কংগ্রেস বলছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের উপর প্রকাশ্য আক্রমণ চালানো হয়েছে, যার মাস্টারমাইন্ড হলো ওই রাকেশ সিং।

